শুক্রবার, ৩রা এপ্রিল, ২০২৬, ২০শে চৈত্র, ১৪৩২

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের কর সংস্কার প্রস্তাব পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধির জন্য

দেশের পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা সৃষ্টি, বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ানো এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিতকল্পে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) একগুচ্ছ করসংক্রান্ত প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে। বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের কাছে পাঠানো একটি চিঠিতে সংগঠনটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, যদি এই প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হয়, তাহলে পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা, টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে। এর ফলে নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্তির সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে, দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়বে এবং বিনিয়োগকারীরা বাজারে আরও আস্থা অর্জন করবে। এসব পরিবর্তন এক সঙ্গে অর্থনৈতিক শক্তি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বর্তমান ব্যবস্থায় ব্যক্তি বিনিয়োগকারীরা লভ্যাংশ আয়ের উপর উৎসে কর কেটে নেওয়ার পর আবার কর দিয়ে থাকেন। এতে করের वास्तविक হার অনেক ক্ষেত্রে ৪০.৫ শতাংশে পৌঁছে যায়। এই পরিস্থিতিতে, ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের জন্য লভ্যাংশে উৎসে কাটা করকে চূড়ান্ত কর হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যাতে করের জটিলতা কমে এবং দ্বৈত করের চাপ বা বোঝা কমে।

আরো বলা হয়, মিউচুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রে কর বৈষম্য দূর করতে হবে। বর্তমানে, সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকার বিনিয়োগের ওপর কর সুবিধা থাকায় বেশিরভাগ খুচরা বিনিয়োগকারী নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এই সীমা তুলে দিয়ে যেকোনো পরিমাণ বিনিয়োগকে প্রত্যক্ষ কর সুবিধার আওতায় আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়, যাতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ে এবং বাজারে স্থিতিশীল তহবিল প্রবাহ বজায় থাকে।

তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে মূলধনী আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ করের হার থাকলেও, মিউচুয়াল ফান্ডসহ অন্যান্য সিকিউরিটিজে ভিন্ন ভিন্ন কর হার থাকায় বিনিয়োগে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। এই পার্থক্য বন্ধ করে সব তালিকাভুক্ত সেক্টর ও ফান্ড ইউনিটের জন্য সমান করহার নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার লেনদেনের টার্নওভারের ওপর কাটা উৎসে কর (টিডিএস) বর্তমানে বাধ্যতামূলক হলেও, ব্রোকারেজ হাউসগুলোকে কর দিতে হয় লস থাকলেও। ডিবিএর প্রস্তাবনায় এর পরিবর্তে টিডিএসকে মিনিমাম ট্যাক্স না ধরে অ্যাডভান্স কর হিসেবে পরিগণিত করার কথা বলা হয়েছে, যাতে প্রকৃত আয় অনুযায়ী কর সমন্বয় হয় এবং কর ব্যবস্থায় ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়।

লোকসান হওয়া বিনিয়োগকারীদের পুনর্বাসনের জন্যও নতুন পরিকল্পনা প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে নেগেটিভ ইকুইটি অন্তর্ভুক্ত অ্যাকাউন্টে করছাড় দেওয়া, ইন্টারেস্ট, ক্যাশ ডিভিডেন্ড ও ক্যাপিটাল গেইনের ওপর পূর্ণ কর অব্যাহতি, পাশাপাশি ১০ লাখ টাকার সীমা তুলে দেওয়ার সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা আবার সক্রিয়ভাবে বাজারে ফিরতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

বড় কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে ‘ডিমড টু বি লিস্টেড কোম্পানি’ কাঠামো চালুর সুপারিশ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট মূলধন, টার্নওভার বা ব্যাংক ঋণ থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো এই কাঠামোর আওতায় আসবে। একই সঙ্গে, বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহে উৎসাহ দিতে প্রণোদনামূলক নীতিগুলি প্রণয়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

অন্য দিকে, বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে নিষ্ক্রিয় তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর সুবিধা বাতিলের ধারণাও রয়েছে। যারা ধারাবাহিকভাবে তিন বছর সাধারণ সভা করেনি বা লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি, তাদের জন্য অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির মতো করহার নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সংগঠনটির মতে, এইসব বিশেষ কর ও বিধান বাস্তবায়িত হলে পুঁজিবাজারের স্বচ্ছতা, গভীরতা ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ উৎসাহিত হবে এবং বাজারের সামগ্রীক আস্থা পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন