মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বেড়ে যাওয়ায় বুধবার সকালে কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানের চালানো শক্তিশালী ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। এই হামলায় বিমানবন্দরের একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ডিপো লক্ষ্যবস্তু হয়, যার ফলে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে যে, এই পরিকল্পিত হামলার ফলে বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে। কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র আব্দুল্লাহ আল-রাজি জানিয়েছেন, ড্রোনটি মূলত বিমানবন্দর সংলগ্ন জ্বালানি ট্যাঙ্কারগুলো লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছে। বিস্ফোরণের পরপরই স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পর্যন্ত প্রাণহানির কোনও খবর পাওয়া যায়নি, তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য।চিকিৎসা ও জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলো দ্রুত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ হামলায় বিমানবন্দরের অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।অপর দিকে, একই সময়ে প্রতিবেশী বাহরাইনে ইরানের আরও একটি ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানি আক্রমণে দেশটির একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানে আগুন লেগেছে। তবে কোন সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান Specifically স্বরূপ বা ক্ষতির মাত্রা প্রকাশ করা হয়নি। ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট সেখানে আগুন নেভানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, এর আগে একদিনই ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কোম্পানি ও বাণিজ্যিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলার ঘোষণা দিয়েছিল।এই ধারাবাহিক হামলার পিছনে রয়েছে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের প্রতিশোধের উদ্দেশ্য। ইরান এই হামলার মাধ্যমে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ও বাণিজ্যিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে আক্রমণ জোরদার করেছে। তেহরানের দাবি, কুয়েত ও বাহরাইনের মতো দেশগুলো তাদের বিমানবন্দর ও সামরিক ঘাঁটিগুলোকে মার্কিন বাহিনী ব্যবহার করতে দিচ্ছে, যা ইরানের স্বার্থের জন্য হুমকি। ইরান এই পরিস্থিতি থেকে নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষা ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার করতে আরও কৌশলগত চাপ বাড়াচ্ছে।বর্তমানে, পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা জারি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হামলাগুলো বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং বিমান চলাচলের জন্য বৃহৎ অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। এ সকল পরিস্থিতি পরিস্থিতিতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য ভাষণ ও ইরানের কঠোর পদক্ষেপগুলো মধ্যপ্রাচ্যকে দীর্ঘস্থায়ী ও ভয়াবহ সংঘর্ষের দিকে নিয়ে যেতে সক্ষম। বিশ্ববাসী গভীর উদ্বেগের মধ্য দিয়ে ভবিষ্যত পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে।





