মঙ্গলবার, ৩১শে মার্চ, ২০২৬, ১৭ই চৈত্র, ১৪৩২

চট্টগ্রামে জ্বালানি তোলার হাহাকার ও ভোগান্তি মারাত্মক

চট্টগ্রামে জ্বালানি তেলের জন্য সাধারণ মানুষ গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে থাকলেও প্রয়োজনমতো তেল মিলছে না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কাঙ্ক্ষিত সরবরাহ না পাওয়ায় ব্যাপক দুর্ভোগে পড়েছেন জনসাধারণ। বিভিন্ন পাম্পে দেখা যাচ্ছে প্রতিশ্রুতিমতো তেল না থাকার কারণে ঝুলছে ‘অকটেন নেই’ বা ‘তেল নাই’ নোটিশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পুলিশের তত্ত্বাবধানে এখন জেলাজুড়ে ফিলিং স্টেশনগুলোতে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া তেল বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি, জেলা প্রশাসন নতুন নিয়োগ দিয়েছে ট্যাগ অফিসার, যারা পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছেন যেন অনিয়ম রোধ করা যায়। চাহিদার তুলনায় জ্বালানি সরবরাহ অনেক কমে যাওয়ায় ঈদ-পরবর্তী সময়ে এ হাহাকার আরও তীব্র হয়ে উঠেছে, যার কারণে মোটরসাইকেল চালকসহ অন্যান্য যানবাহনের চালকদের পড়তে হয়েছে বিশেষ ভোগান্তিতে।

জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিটি যানবাহনের জন্য বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ও কাগজপত্র ছাড়া তেল বিক্রি নিষেধ। রোববার থেকে এ বিষয়ে জনসচেতনতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের জন্য হেলমেট, বৈধ লাইসেন্স ও কাগজ না থাকলে অকটেন বিক্রি বন্ধ থাকবে। অন্য দেশের মতোই, যানবাহনের চালকদেরও তাদের লাইসেন্স ও বৈধ কাগজপত্র দেখাতে হচ্ছে। এই তদারকি চলমান থাকছে থানা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায়।

বিশ্ববাজারে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সমগ্র বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে দেশের জ্বালানি সংকটের বিষয়টি আরও গুরুতর হয়ে উঠেছে। শুরুতে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি জ্বালানি কিনতে শুরু করেন কিছু ক্রেতা, যার ফলেই ৬ মার্চ থেকে সরকার বিভিন্ন জ্বালানি পণ্য বিক্রিতে সীমা নির্ধারণ করে। তবে ঈদের ছুটির আগে এই রেশনিং ব্যবস্থা কিছুদিনের জন্য স্থগিত করা হয়। একদিন স্বাভাবিক থাকলেও, ২৩ মার্চ থেকে ফের চট্টগ্রামের বিভিন্ন পাম্পে তেলের সংকট দেখা দেয়। ফলে বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকরাই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হন। বর্তমানে বেশির ভাগ পাম্পে নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি বিক্রি চলছে, কারণ চাহিদার অর্ধেকও ডিপো থেকে মিলছে না।

চট্টগ্রাম বিভাগে মোট পেট্রোলপাম্প রয়েছে ৩৮৩টি, যেখানে আছেন ৭৯৯ জন এজেন্ট ডিস্ট্রিবিউটর ও ২৫৫ জন প্যাকড পয়েন্ট ডিলার। এর মধ্যে চট্টগ্রাম নগরীতে রয়েছে ৪৬টি ফিলিং স্টেশন, জেলায় আরো শতাধিক। তবে দীর্ঘ দিন ধরে বেশিরভাগ পাম্পে অকটেনের সরবরাহ নেই। মালিকরা বলছেন, চাহিদার অর্ধেকের বেশি জ্বালানি ডিপো থেকে পাওয়া যাচ্ছে না, এ কারণেই রেশনিং পদ্ধতিতে কাজ চালানো হচ্ছে। এছাড়া, ঈদের ছুটিতে ব্যাংক ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় অনেক ডিলার সময়মতো পে-অর্ডার করতে পারেননি, যা ডিপো থেকে তেল উত্তোলনেও বাধা সৃষ্টি করেছে।

নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে ‘অকটেন নেই’ বা ‘তেল নেই’ নোটিশ ঝুলছে। যেখানে তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষমাণ অনেক মোটরসাইকেল ও রাইড-শেয়ার চালকদের দেখা গেছে। চকবাজার, বহদ্দারহাট, প্রবর্তক মোড়, কাতালগঞ্জ, ষোলশহর, লালখান বাজার ও সিআরবি মোড়ের ফিলিং স্টেশনগুলোতেও একই চিত্র। আগে যেখানে একদিনে ২৪ ঘণ্টা তেল বিক্রি হতো, এখন নির্দিষ্ট সময় ও সীমিত পরিমাণে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন মালিকরা। কোথাও কোথাও পুরোপুরি তেল বিক্রি বন্ধ থাকলেও, কোথাও সীমিত সরবরাহ থাকায় লাইনে দীর্ঘ ভিড় দেখা যায়।

লালদীঘির পাড় সিরাজুল হক অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনে সোমবার দুপুরে দেখা গেছে, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মোটরসাইকেলগুলোর। বিকেল ৫টার দিকে দেখা যায়, পাম্পটি বন্ধ, যদিও সকালে এটি ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকত।

নগরীর নানা পেট্রোলপাম্পের কর্তৃপক্ষ বলছেন, তাদের কেউ কেউ ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করেছেন, যারা পাম্পের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক বলেন, বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে যেন অস্থিতিশীলতা এড়ানো যায়। তারা এখন কাজ করছেন এবং পরিস্থিতির ওপর নজরদারি চালাচ্ছেন।

পোস্টটি শেয়ার করুন