ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম জনপ্রিয় ক্লাব টটেনহ্যাম হটস্পার বর্তমানে এক বিরাট সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দলের ধারাবাহিক হতাশাজনক পারফরম্যান্স এবং নিম্নগামী শীর্ষস্থান থেকে অবনমন হওয়ার শঙ্কায় ক্লাব কর্তৃপক্ষ কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়। মাত্র পাঁচ সপ্তাহ আগে যখন ইগর টিউডর এই দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন, তখন অনেক সমর্থক আশা করেছিলেন যে তিনি এই বিশৃঙ্খলা কাটিয়ে উঠতে পারবেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, টিউডর এর অধীনে খেলা সাতটি ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে জয় এবং চারটি হার। বিশেষ করে আর্সেনালকে ৪-১ গোলে হার মানানো এবং নটিংহাম ফরেস্টের কাছে ৩-০ গোলের বিশাল ব্যবধানের পরাজয় ক্লাবকে কঠিন পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দেয়। 17 নম্বর স্থানে থাকা টটেনহ্যাম এখন রেলিগেশন বা অবনমন অঞ্চলের খুব কাছাকাছি। তারা এখন মাত্র এক পয়েন্টের ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছে। এই জরুরি অবস্থায়, ১৯৭৭ সালের পর এই প্রথম দ্বিতীয় ডিভিশনে নামার ভয়ংকর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে উত্তর লন্ডনের এই ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের জন্য।
কিন্তু এই বিপর্যয় কেবল মাঠের পারফরম্যান্সের জন্য নয়; এর সাথে রয়েছে আরও একটি ব্যক্তিগত কারণ। ম্যাচের পরপরই, নটিংহাম ফরেস্টের কাছে হার নিশ্চিত হওয়ার পরে, ইগর টিউডর জানতে পারেন তাঁর বাবা মারিও টিউডর মারা গেছেন। এই শোকের মুহূর্তে ক্লাব কর্তৃপক্ষ তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। তাদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, পারিবারিক এই শোকজনক পরিস্থিতি এবং দলটির বর্তমান অবস্থা বিবেচনা করে, উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে এই বিচ্ছেদ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। টিউডর এখন তাঁর পরিবারের পাশে থাকতে ক্লাব থেকে বিদায় নিচ্ছেন।
এই সংকটের ফলে, টটেনহ্যামের বর্তমান অবস্থা দীর্ঘ সময় ধরে চলমান। গত ২৮ ডিসেম্বরের পর থেকে প্রিমিয়ার লিগে কোনো ম্যাচেই জয় পাননি ক্লাব। টানা ১৩ ম্যাচে জয়হীন এই দুঃখজনক সময়ের কারণে সমর্থকদের মনে ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। তবে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিরুদ্ধে জেতার মাধ্যমে কিছু আশা জেগেছিল, কিন্তু ঘরোয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দুর্দশার শেষ দেখা গেল। দলের বড় বড় খেলোয়াড়দের ইনজুরি পরিস্থিতিও কোচের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা একাদশ নির্বাচনে অসুবিধা সৃষ্টি করেছে।
গত মৌসুমে অ্যাঞ্জে পোস্টেকগ্লুর অধীনে ১৭ নম্বরে থেকে লিগ শেষ করলেও, ইউরোপা লিগের শিরোপা জয় করে দলের মান কিছুটা রক্ষা পেয়েছিল। কিন্তু এই মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। বাকি সাতটি ম্যাচে জয় পাওয়ার জন্য তারা এখন মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যেন প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হয়। আগামী ১২ এপ্রিল স্যান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের জন্যই অপেক্ষা করছে টটেনহ্যাম। এখন দেখার বিষয়, নতুন কোচের অধীনে তারা কি করতে পারবে এই দীর্ঘ জয়বিহীন সময় কাটিয়ে ওঠা এবং দারুণ এই সংকট থেকে পুনরুজ্জীবিত হতে।





