মঙ্গলবার, ৩১শে মার্চ, ২০২৬, ১৭ই চৈত্র, ১৪৩২

মুম্বাইয়ের দীর্ঘ জয়জয়যাত্রা: কোহলিকে ছাড়িয়ে রোহিতের বিশ্বরেকর্ড

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ইতিহাসে এবারও এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকলো ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম। দীর্ঘ ১৩ বছর এবং ৫১০৭ দিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে, টি-টোয়ন্টির উদ্বোধনী ম্যাচে জয়ের স্বাদ পায় পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। কলকাতা নাইট রাইডার্সের দেওয়া ২২১ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নামা মুম্বাই জোড়া জোড়া শুরু করে এবং মাত্র ৫ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটের জয়ের রেকর্ড গড়ে। এই বিশাল জয়ের পিছনে রোহিত শর্মার অসাধারণ পারফরম্যান্স এবং তার এক অনন্য রেকর্ড বড় ভূমিকা রেখেছে। তার এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি আইপিএলের ইতিহাসে এক নতুন উচ্চতা স্পর্শ করেছেন এবং বিরাট কোহলির কাছ থেকে আধুনিক ক্রিকেটের সর্বোচ্চ রানের মালিক হওয়া রেকর্ড ছিনিয়ে নিয়েছেন।

এখন থেকে রোহিতের কলকাতার বিপক্ষে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড (১১৬১ রান) রয়েছে, যা কোহলির ১১৫৯ রানের রেকর্ডকে টপকে গেছে। ২০১২ সালের পর প্রতিটি আসরেই মুম্বাই প্রথম ম্যাচে হেরে স্বস্তি পায়নি, কিন্তু এবার এই জয় ছিল তাদের জন্য এক ধরনের মানসিক গেরো কাটানোর লড়াই। উদ্বোধনী জুটিতে রোহিত শর্মা এবং রায়ান রিকেলটন প্রথমে স্কোরবোর্ডে ১৪৮ রান যোগ করেন, যা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার জন্য যথেষ্ট ছিল। রোহিত শর্মা মাত্র ৩৮ বলে ৬টি চার এবং ৬টি ছক্কায় ৭৮ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন, যা দলের জয়ের ভিত গড়ে দেয়।

আরেকদিকে, রোহিতের এই দারুণ ইনিংস কেবল তার ব্যক্তিগত রেকর্ড বাড়িয়ে দিয়েছে বলেই নয়, ভারতের ক্রিকেটের আরও এক উচ্চ পর্যায় পৌঁছে গেছে। এই ম্যাচে তিনি বিরাট কোহলির কাছ থেকে আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ব্যাটার হিসেবে তার স্থান আরও সুদৃঢ় করেছেন। তবে এর পাশাপাশি, ভারতের মানসম্পন্ন ব্যাটার রায়ান রিকেলটনও নিজের শক্তির জানান দিয়েছেন। ১৫তম ওভারে আউট হওয়ার আগে তিনি ৪৩ বলের খেলায় ৮১ রান করলেন, যার মধ্যে ছিল ৪টি চার ও ৮টি বিশাল ছক্কা। এই দুই ব্যাটার ও দলের অন্য ক্রিকেটারদের ঝড়ো ব্যাটিংয়ের ফলে, বিশাল লক্ষ্যটিও সহজ করে তোলে মুম্বাইয়ের জন্য।

প্রথমে ব্যাটিং করে নির্ধারিত ২০ ওভারে কলকাতা নাইট রাইডার্স ৪ উইকেট হারিয়ে ২২০ রান করে। অভিজ্ঞ আজিঙ্কা রাহান ৬৭ ও তরুণ আবির রাঘুবংশী ৫১ রান করে বড় ভূমিকা রাখেন। ওপেনার ফিন অ্যালেন ১৭ বলে ৩৭ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে দলের শক্তির জায়গা হয়। তবে মুম্বাইয়ের সেরা পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন শার্দুল ঠাকুর, ৪ ওভারে ৩৯ রান খরচায় তিনি ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে কলকাতার রানের চাকা কিছুটা ঠেকান।

ফলে, এই জয়ের মাধ্যমে মুম্বাই শুধু দুই পয়েন্ট পায়নি, বরং দীর্ঘ দিনের মানসিক বাধা কাটিয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, কলকাতা ব্যর্থ হলো তাদের বড় লক্ষ্য পুরণ করতে, কারণ তাদের বোলাররা সেই রাতের দুঃখজনক পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। ওয়াংখেড়ের দর্শকদের সামনে রোহিত শর্মার রেকর্ড এবং মুম্বাইয়ের এই জয় দেখতে এসেছিল হাজারো দর্শক, যারা এই স্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী থাকলেন। বিশ্লেষকদের মত, এই জয় মুম্বাইকে আগামী ম্যাচগুলোতে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে এবং তারা বাকি আসরে একজন ভয়ঙ্কর প্রতিপক্ষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন