গত ২৮ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের এক মাস পূরণ হয়েছে। এ সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের সাতটি দেশের ওপর ইরান ব্যাপক হামলা চালিয়েছে, যা মোট ৫ হাজার ৪৭১ বার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আঘাতের ঘটনা ঘটেছে। এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল বিভিন্ন দেশের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো, তবে বেশ কয়েকটি দেশের সরকারি, অর্থনৈতিক ও জ্বালানি অবকাঠামোও এর শিকার হয়েছে। সূত্রের তথ্যানুযায়ী, এই সাত দেশের মধ্যে জর্ডান বাদে সবগুলোই গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) সদস্য। তুরস্কের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে জানা যায়, ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে থেকে মার্চের শেষ পর্যন্ত ইরানের হামলার মাত্রা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর সবচেয়ে বেশি আঘাত হয়েছে, যেখানে একটি বিমানঘাঁটি এবং নৌঘাঁটিসহ বিভিন্ন সরকারি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ৪১৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ১৫টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১ হাজার ৯১৪টি ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে। কুয়েত তার পরেই আসে, যেখানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে ৩০৯টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ৬১৬টি ড্রোন আঘাত হেনেছে। তৃতীয় স্থানে রয়েছে কাতার, যেখানে ২০৬টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ৯৩টি ড্রোন ছুড়েছে ইরান। এরপর আছে বাহরাইন, যেখানে গত এক মাসে ১৭৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৩৯১টি ড্রোন আঘাত হয়েছে। সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি, মার্কিন সেনা ঘাঁটিসহ দেশের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরান ৫২টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১০ হাজার ৬টি ড্রোন নিক্ষেপ করে। এছাড়া জর্ডান ও ওমানে যথাক্রমে ২৬২টি ওপরে ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন ও ১৯টি ড্রোন আঘাতের ঘটনা ঘটে। এই বিপুল হামলার মাধ্যমে ইরান তার শক্তি প্রদর্শন এবং মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করে চলেছে।





