ইরানের জন্য আবারও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যদি হরমুজ প্রণালী দ্রুত খোলা না হয়, তাহলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও হামলা চালানো হবে। আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, ইরানের খারগ দ্বীপ এবং এর তেল, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে অভিযানের পরিকল্পনা রয়েছে তার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, যদি দ্রুত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে না দেওয়া হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, তেলক্ষেত্র ও খারগ দ্বীপের ওপর আক্রমণ চালাতে পারে।
অপরদিকে, ট্রাম্প দাবি করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যকার আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে। তবে যদি কোনো সমঝোতা না হয়ে, পরিস্থিতি আরও বেশি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এর আগে ইরান জানিয়েছিল, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে না; তবে মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান চলমান রয়েছে। এই মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে পাকিস্তানের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের তেলশিল্পের নিয়ন্ত্রণ নিতে আগ্রহী। এ ব্যাপারে তিনি জানিয়েছেন, তার ‘অগ্রাধিকার হবে তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া’। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করছেন।
জানুয়ারিতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার শক্তিশালী নেতা নিকোলা মাদুরোকে সরিয়ে দেয় এবং দেশটির তেলশিল্পের উপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করে।
অন্যদিকে, এই পরিস্থিতির মধ্যে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরানের মধ্যবর্তী মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে গড়িয়েছে। এর ফলশ্রুতিতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে; গত এক মাসে এই দাম দেড় গুণ বেড়েছে। সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য ব্যারেলপ্রতি ১১৬ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা এই সংঘাত শুরু হতে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘেই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফার পরিকল্পনাকে তেহরান মূল্যহীন ও অযৌক্তিক মনে করছে। তিনি আরও বলেন, ইরানের অবস্থান স্পষ্ট, এবং দেশটি তার স্বাভাবিক কাঠামোর ভিত্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে।
বাঘেই যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন, জানিয়েছেন, আমেরিকায় কতজন এই দাবিগুলোর গুরুত্ব দেয় তার ঠিক নেই। ইরান নিজস্ব নীতি অনুসরণ করছে, আর তাদের মূল লক্ষ্য হলো আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
তাঁর ভাষায়, ইরানের সামরিক পদক্ষেপ কেবল সেইসব আঘাতের জবাব দিচ্ছে, যেগুলো থেকে ইরানের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আর এই কঠোর অবস্থান নিয়ে দেশটি তার প্রতিবেশী দেশগুলো—বিশেষ করে সৌদি আরবসহ অন্যান্য সহযোগী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছে। তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন, সংঘাত এড়াতে কিছু আঞ্চলিক দেশ তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করেছে।





