শুক্রবার, ৩রা এপ্রিল, ২০২৬, ২০শে চৈত্র, ১৪৩২

প্রথমবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তারেক রহমানের আবির্ভাব, উচ্ছ্বাসের বন্যা

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি ছিল প্রথমবার যখন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হন তারেক রহমান। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা ২৩ মিনিটে তার গাড়িবহর দলীয় কার্যালয়ের সামনে পৌঁছায়। এ সময় বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী উল্লসিত হয়ে তার জন্য স্লোগান দিতে থাকেন। মূলত এই মুহূর্তটি ছিল উদ্দীপনা ও উচ্ছ্বাসের চোখের দেখার। এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং রাত ৭টার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ নিজ নিজ গাড়ি দিয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। তারেক রহমান দলীয় কার্যালয়ের সামনে পৌঁছানোর পর তিনি গাড়ির দরজায় দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে নেতা-কর্মীদের শুভেচ্ছা জানান এবং পরে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। এর আগে বিকেলে সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে সরেজমিনে দেখা গেছে, পুরানা পল্টনের নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয় এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নেতা-কর্মীরা সড়কের দুই পাশে ও বিভাজকের উপরে অবস্থান নিয়েছেন। অনেকের হাতে রয়েছে দলীয় ব্যানার, ফেস্টুন ও নানা স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড। ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বেশ কয়েকটি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিচ্ছিন্নভাবে স্লোগান দিতে দেখা গেছে। এ সময় তারা ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন শুভেচ্ছা স্বাগতম’, ‘ছাত্রদলের পক্ষ থেকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা’ ও তারেক রহমানের নামে বিভিন্ন স্লোগান উচ্চারণ করেন। যানজটের কারণে নয়াপল্টন এলাকায় সড়ক জ্যাম সৃষ্টি হয়েছে, তবে গাড়ি এক লাইনে কিছুটা চলাচল করতে সক্ষম। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী মুক্তভাবে এই এলাকা ছাড়াও ফকিরাপুল, ভিআইপি রোড ও কাকরাইলসহ আশেপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন পয়েন্টে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। এর এক নারী কর্মী জানান, দুই বছর আগেও আমরা এখানেতে আসতে পারতাম না — পুলিশ আমাদের তাড়াতুরে গ্রেপ্তার করত। কিন্তু আজকের এই সম্মিলিত উপস্থিতিতে তিনি বলেন, ‘আল্লাহ চাইলে কী না পারে।’ এটি ছিল মানুষের সাহস ও দৃঢ়তার এক সুন্দর প্রকাশ।

পোস্টটি শেয়ার করুন