শুক্রবার, ৩রা এপ্রিল, ২০২৬, ২০শে চৈত্র, ১৪৩২

তামাকে কর কাঠামো সংস্কারে জোর, দৃষ্টিপাত স্বচ্ছতা ও টেকসই নীতির দিকে

তামাক খাতের করনীতি সহজ, স্বচ্ছ এবং পূর্বানুমানযোগ্য করে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করে তোলার গুরুত্ব বেশ জোর দিয়ে তুলে ধরেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তারা মনে করেন, এমন একটি বাস্তবসম্মত ও ভারসাম্যপূর্ণ কর কাঠামো প্রয়োজন, যা শুধুমাত্র রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করবে না, বরং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি ও দেশের অর্থনৈতিক সামগ্রিক উন্নতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বৃহস্পতিবার (০১ মার্চ) রাজধানীর বনানীতে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘তামাক কর: স্বল্পমেয়াদি রাজস্ব বনাম দীর্ঘমেয়াদি টেকসইতা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এসব বিষয় উঠে আসে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ংয়ের একজন প্রতিনিধি। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন পিআরআইর গবেষণা পরিচালক ড. বজলুল হক খন্দকার এবং আলোচনা পরিচালনা করেন পিআরআইর মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান। মূল প্রবন্ধে বলা হয়, ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে তামাক খাতে কর ও মূল্য দ্রুত বাড়লেও রাজস্ব আয়ের প্রকৃত প্রবৃদ্ধি হতাশাজনকভাবে কমে গেছে। ২০২৪ সালের জুন ও ২০২৫ সালের জানুয়ারির মধ্যে কর ও মূল্য বৃদ্ধির ফলে বাজারে সিগারেটের বিক্রি কমে যায়, এ কারণে রাজস্ব আয় বাড়ার গতি বাধাগ্রস্ত হয়।

তথ্য অনুসারে, দেশে তামাকের ওপর করের হার এখন প্রায় ৮৩ শতাংশ, যা বিশ্বের উচ্চতম স্তরগুলোর মধ্যে এক একটি। এই পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র কর বাড়িয়ে রাজস্ব বাড়ানোর সুযোগ কঠিন হয়ে পড়েছে। একইসাথে, আকস্মিক কর ও মূল্য পরিবর্তন বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে এবং অবৈধ বাণিজ্যের সুযোগ বাড়াচ্ছে।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা জানান, রাজস্ব সংগ্রহ ও বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে একটি বাস্তবসম্মত ও পূর্বানুমানযোগ্য কর কাঠামো থাকা দরকার। তারা বলেন, ঘনঘন কর ও মূল্য পরিবর্তন ভোক্তাদের কমদামি পণ্যে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ায়, যা বাজারে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে। এছাড়া, অনেক দিন ধরেই বিদ্যমান বহুস্তর কর কাঠামো জটিলতা সৃষ্টি করে যার কারণে রাজস্ব সালের ধারনা দুর্বল হয়ে পড়ে। এজন্য তারা সুপারিশ করেন, ধাপে ধাপে মূল্যভিত্তিক কর থেকে নতুন করে সুনির্দিষ্ট কর পদ্ধতিতে রূপান্তর করার জন্য, যা কার্যকরে সহজ এবং রাজস্বের জন্য সুবিধাজনক।

অবৈধ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সক্ষমতা উন্নত করা, বাজার তদারকি জোরদার ও উৎপাদন পর্যায়ে আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তারা সতর্ক করে বলেন, বর্তমান কাঠামোর কারণে বৈধ উৎপাদকরা বেশি মুনাফা করতে না পারায় অবৈধ ব্যবসা লাভজনক হয়ে উঠছে।

সার্বিকভাবে, তারা মনে করেন, দেশের অর্থনীতির টেকসই উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে একটি স্বচ্ছ, সমন্বিত ও ভবিষ্যতদর্শী তামাক কর ব্যবস্থা এখন জরুরি সময়ের দাবি।

পোস্টটি শেয়ার করুন