শুক্রবার, ৩রা এপ্রিল, ২০২৬, ২০শে চৈত্র, ১৪৩২

কেড়িল-রামপুরা যানজট কমাতে নতুন বাইপাসের পরিকল্পনা

রাজধানীর কুড়িল থেকে রামপুরা পর্যন্ত দীর্ঘ দিন ধরে চলমান তীব্র যানজট কমানোর জন্য সরকার একটি নতুন বাইপাস সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে মূল চেকপোস্টের চাপ কমিয়ে পথের যানবাহন স্বাভাবিক ও নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত করতে চাইছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নতুন এই প্রকল্পের আওতায়, রাজধানীর ১০০ ফুট সাধারণ সড়ক থেকে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির দিকে যায় এমন রুটের মাধ্যমে সানভ্যালি আবাসিক প্রকল্পের ভেতর দিয়ে একাধিক সড়ক সংযোগ তৈরি করা হবে, যেখানে আফতাবনগর এবং রামপুরা পর্যন্ত ডাবল লেনের সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এই প্রকল্পের প্রাক্কলন ও পরিদর্শনে অংশ নেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার।

প্রকল্পের খরচ কমাতেও বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুতপুর্ণ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়। এর অংশ হিসেবে, এই সড়ক নির্মাণের কাজ তিনটি সংস্থা ভাগ করে নেবে: রাজউক, উত্তর সিটি করপোরেশন এবং সানভ্যালি হাউসিং সোসাইটির কাজের ভাগ। মূল ভাবনা হচ্ছে, বাইপাস সড়কের ওপর একটি ব্রিজ ও ডবল লেনের সড়ক নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করে দ্রুত সময়ের মধ্যে যানচলাচল স্বাভাবিক করা। এই রুট চালু হলে কুড়িল থেকে রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় ট্রাফিকের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।

রাজউক চেয়ারম্যান জানান, পূর্ব নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাইপাস রুটে একটি ব্রিজ ও ডাবল লেনের সড়ক নির্মাণের পাইলট প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে কাজ চলছে। এতে করে কুড়িল থেকে রামপুরা এবং আশপাশের এলাকা দিয়ে যানজটের ব্যাপক চাপ কমবে। ডিএনসিসি কর্মকর্তা বলেন, প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রতিশ্রুত এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে যানজটনিরসনে নতুন পথ সৃষ্টি হবে। কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ার বলেন, এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন হলে বাড্ডার মূল সড়কে যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। তিনি পরিদর্শনকালে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন এবং আশা প্রকাশ করেন, এই বিকল্প সড়ক চালুর ফলে পূর্ব ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাবে। বিশেষ করে সাধারণ অফিসগামী মানুষ দীর্ঘ সময়ের যানজট ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এই পরিকল্পনা সফল হলে যানজট কমবে, যানবাহন চলাচল আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে এবং রাজধানীর ট্রাফিক সংকট কিছুটা হলেও লঘু হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট সকল।

পোস্টটি শেয়ার করুন