যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ধারাবাহিক আক্রমণের পরেও ইরানের সামরিক শক্তি এখনও সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েনি বলে নতুন এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। মার্কিন সংবাদ সংস্থা সিএনএন-এর প্রতিবেদনে একাধিক সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে হামলা চালানো সত্ত্বেও ইরানের প্রায় অর্ধেক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার এখনো অক্ষত রয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অনেক গুরুত্বপূর্ণ মিসাইল উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এখনও সচল ও কার্যক্ষম রয়েছে এবং হাজার হাজার ড্রোন তাদের অস্ত্রভাণ্ডারে সংরক্ষিত রয়েছে, যা আক্রমণে ব্যবহার করতে পারে। তবে কিছু লঞ্চার ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে বা ব্যবহারের অক্ষম হয়ে গেছে, তাই সেগুলোর কার্যক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে গেছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়েছে। কিন্তু এই মূল্যায়ন ইসরাইলের দাবির সঙ্গে পুরোপুরি মিল না রাখলেও, গত মার্চে ইসরাইল দাবি করেছিল যে, তাদের হামলায় ইরানের প্রায় ৬০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ধ্বংস বা অকার্যকর হয়ে গেছে। তবে মার্কিন গোয়েন্দাদের বিশ্লেষণ এই দাবিকে মানতে চান না। বিশ্লেষকদের মতে, ‘অক্ষত কিন্তু ব্যবহারযোগ্য নয়’—এভাবে লঞ্চারকে শ্রেণিবিন্যাস করা একটি ব্যাপার, যার ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা। ইসরাইলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হামলার ফলে প্রায় ২০০টি লঞ্চার ধ্বংস হয়েছে এবং আরও ৮০টি কার্যক্ষমতা হারিয়েছে। এই স্থাপনাগুলি মূলত ভূগর্ভস্থ ঘাঁটিতে ছিল, যেখানে বিমান হামলা চালানো হয়। অন্যদিকে, মার্কিন অনুমান অনুযায়ী, এখনও ইরানের হাতে বিপুলসংখ্যক আক্রমণাত্মক ড্রোন রয়েছে, যা প্রয়োজন অনুসারে ভবিষ্যতেও ব্যবহার করতে পারে। এক সূত্র সতর্ক করে বলেছে, ইরান এখনও ‘পুরো অঞ্চলজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর ক্ষমতা রাখে।’ তবে এই প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু অস্বীকার করেছে হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন। হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্রের অভিযোগ, এ ধরনের তথ্য ফাঁসের মাধ্যমে যৌথ মার্কিন-ইসরাইল অভিযান কতটাই বা সফল, সেই ব্যাপারটি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।





