শনিবার, ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৬, ২১শে চৈত্র, ১৪৩২

তেল আবিবে মোসাদের সদরদপ্তরে ইরানের হামলা

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভয়াবহ সংঘাতের মাঝে এক চাঞ্চল্যকর দাবি সামনে এনেছে ইরান।

দেশটির সামরিক বাহিনী দাবি করেছে যে, তারা ইসরায়েলের প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা

মোসাদের সদরদপ্তরে একটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও ‘নির্ভুল হামলা’ পরিচালনা করেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে পাকিস্তানি

সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ এই খবরটি নিশ্চিত করেছে। তেহরানের এই দাবি যদি সত্য হয়, তবে

এটি চলমান যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি এবং ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য একটি বড়

ধরণের আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে।

ইরানি সামরিক সূত্রগুলো এই অভিযান সম্পর্কে জানিয়েছে যে, এটি ছিল একটি সুনির্দিষ্ট

লক্ষ্যভিত্তিক মিশন। ইসরায়েলের বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক রাজধানী তেল আবিবে অবস্থিত

মোসাদের এই অতি-গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা স্থাপনাটিকে নিশানা করেই ক্ষেপণাস্ত্র বা

ড্রোন হামলাটি চালানো হয়। ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, তাদের এই হামলাটি

লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। মূলত ইসরায়েলি গোয়েন্দা তৎপরতার

মূল কেন্দ্রবিন্দুকে অচল করে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই দুঃসাহসিক পরিকল্পনা হাতে নেওয়া

হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে এই বড় ধরণের সামরিক ক্ষয়ক্ষতির দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক কোনো

স্বাধীন সংস্থা বা নিরপেক্ষ পক্ষ থেকে সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এমনকি

ইসরায়েলি সরকারের পক্ষ থেকেও তাদের অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই গোয়েন্দা সদরদপ্তরে

হামলার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রদান করা হয়নি। হামলার

ফলে ভবনের কতটা ক্ষতি হয়েছে কিংবা সেখানে থাকা কর্মকর্তাদের কোনো প্রাণহানি ঘটেছে

কি না, সে বিষয়েও এখন পর্যন্ত কোনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মোসাদের মতো একটি শক্তিশালী ও নিচ্ছিদ্র

নিরাপত্তা বেষ্টিত স্থাপনায় হামলার দাবি করে ইরান মূলত তাদের উন্নত সামরিক

প্রযুক্তি ও দূরপাল্লার আঘাত হানার সক্ষমতার জানান দিতে চাইছে। যদি এই হামলার খবরটি

শেষ পর্যন্ত সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তা ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার কয়েক দশকের

ছায়াযুদ্ধকে এক নজিরবিহীন এবং বিধ্বংসী সম্মুখ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

বর্তমানে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এক ধরণের যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে, যেখানে আকাশপথে

আক্রমণ এবং পাল্টা আক্রমণ নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এমন এক সংকটময় মুহূর্তে

মোসাদ সদরদপ্তরে হামলার এই খবর বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন গভীর পর্যবেক্ষণে রয়েছে যে, ইসরায়েল এই দাবির বিপরীতে

কোনো সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখায় কি না কিংবা তেল আবিবের পরিস্থিতি বর্তমানে ঠিক

কেমন। সব মিলিয়ে এই ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে আরও রহস্যময় ও বিপজ্জনক করে

তুলেছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন