দেশের বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ ও শিল্পখাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনার জন্য শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, গভীর সমুদ্রবন্দর দ্রুত চালু করা, বিদেশি বিনিয়োকারীদের বিমানবন্দরের ঝামেলা না হয় দেশে সহজে আসার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া, ব্যাংক ঋণের সুদহার কমানো, কর ব্যবস্থা সংস্কার ও বন্ধ কলকারখানা চালুর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার বিভিন্ন প্রস্তাব উত্থাপন করেন ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো বেসরকারি খাতের উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের ঘোষণা দেন। এই পরিষদে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা সরাসরি সরকারের উচ্চ পর্যায়ে ব্যবসা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে হওয়া বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের বিষয়ে মতামত দিতে পারবেন। ইতিমধ্যে এর প্রথম সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, কর ও ভ্যাট সংক্রান্ত জটিলতা, উচ্চ সুদহার, বন্দরে পণ্য খালাস ও নিবন্ধন সংক্রান্ত সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য দুই বছরের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়াও, ব্যবসা সহজ করার জন্য দেশে প্রথমবারের মতো ‘বেসরকারি খাতের পরামর্শক পরিষদ’ গঠন করে দু’বছরের পরিকল্পনা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলকভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে অন্যান্য দেশের প্রমাণভিত্তিক আইন, নীতি ও নিয়ম-কানুন অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে উদ্যোগ নিলে কার্যকর ও ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব। পরিষদের সদস্যরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত প্রস্তাবনা প্রস্তুত করতে একমত হন, যেখানে ব্যবসা পরিচালনার বাধাসমূহ নিরসনে বিভিন্ন কার্যকরী কর্মপরিকল্পনা থাকবে। সচেতনতা বাড়াতে এবং সমস্যা চিহ্নিত করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, ব্যবসায়ীরা জ্বালানি সংকটের কারণে অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তারা নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের আবেদন করেন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহারে সরকারি সহায়তা চান। দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা শিল্প ও কারখানা চালু রাখতে এই জ্বালানি সরবরাহের বিষয়েও দাবি তুলেছেন। অর্থমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যেন সহজে এবং ঝামেলা ছাড়াই দেশে আসতে পারেন, সে বিষয়ে মতামত দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে বেশ কয়েকটি বড় সমস্যা চিহ্নিত হয়—যেমন, বিভিন্ন লাইসেন্সের সহজতর প্রক্রিয়া, আমদানি-রপ্তানি দ্রুত করা, আন্তঃসামুদ্রিক বন্দরের কার্যক্রম ত্বরক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশের জ্বালানি ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে এশীয় ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) বাংলাদেশকে বাজেট সহায়তা দেওয়ার সহমত প্রকাশ করেছে। এড়ি লিভার, জলবায়ু সহনশীল প্রকল্প ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীরা ‘কস্ট অব ডুইং বিজনেস’ ও ‘ইজ অব ডুইং বিজনেস’ সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা তুলে ধরেন, যার কিছু অংশের সমাধান ইতিমধ্যেই হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আরও কিছু সমস্যার দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি, বন্ধ মিল-কারখানা পুনরায় চালু করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যেন তারা পুনরায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। এ ছাড়া, পুরোনো প্রকল্পগুলো সচল করে বাড়তি কর্মসংস্থান দাঁড়ানো সম্ভব বলে প্রত্যাশা করছে সরকার। সভায় সভাপতিত্ব করেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক চৌধুরী, উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী, জ্বালানি ও বাণিজ্য মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও প্রতিনিধিরা। সরকারও এই উদ্যোগে সহায়তা প্রদান করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।





