স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধ একক কোনো ব্যক্তির নির্দেশে হয়নি। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে শেখ মুজিবুর রহমানকে বন্দি করে পাকিস্তানি হানাদাররা দেশের স্বাধীনতা অর্জনের পথে বাধা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল, কিন্তু দেশের মানুষের সংগ্রামী spirit কখনো থেমে থাকেনি। তখনই মহান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান। শনিবার (৪ এপ্রিল) হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়ায় মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সদর দপ্তর হিসেবে পরিচিত এই স্থানটিতে মুক্তিযোদ্ধা ও জনসহ উপস্থিত জনতার সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্ত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেদিন সেনা সদস্যদের পরামর্শ দেন, অস্ত্র সমর্পণ করা যাবে না। এরপর তিনি দুই শিশুপুত্রকে নিয়ে ঢাকায় চলে যান, যেখানে পাকিস্তানি বাহিনী তাকে গ্রেফতার করে। চলতি বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, এই তেলিয়াপাড়া থেকেই মুক্তিযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের পরিকল্পনায় মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক কর্নেল আউয়াল গনি ওসমানীর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। অথচ, আওয়ামী লীগ এই মহান নেতাকে যথাযথ মূল্যায়ন করেনি, তার ভূমিকা ইতিহাসের পাতায় উপেক্ষিত রয়ে গেছে। জনগণের সামনে এই সত্য উদ্ঘাটন প্রয়োজন।
তিনি বলেন, আমার মনে হয় অনেক সময় কিছু রাজনৈতিক দল মুক্তিযুদ্ধের মাহাত্ম্যকে অস্বীকার বা ছোট করে দেখানোর চেষ্টা করে। যারা মুক্তিযুদ্ধের স্বীকৃতি অস্বীকার করে, আমি তাদের স্পষ্ট ভাবে বলতে চাই, মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গৌরব, পরিচয় ও অস্তিত্বের অন্যতম ভিত্তি।
সংস্কার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশি জনগণ অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না। বিভিন্ন আন্দোলনের মাধ্যমে ২০২৪ সালে দেশকে ফ্যাসিস্ট হুমকি থেকে রক্ষা করতে জনতার আন্দোলন সফল হয়েছে। এই আন্দোলন দেশের গৌরবের অংশ। আমরা জোর করে বলি, আমরা এই মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবান ইতিহাসের সম্মানে আছি।
মির্জা ফখরুল আরো বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে কিছু রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা বলে, বর্তমান বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের স্বীকৃতি দেয় না—এমন মিথ্যা প্রচারণা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও জানান, আওয়ামী লীগ অনেক সময় সংস্কার নিয়ে কাজ শুরু করেছে। শাহজিয়া প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একদলীয় শাসন থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। খালেদা জিয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে প্রশাসনিক সংস্কার চালু করেন। তারেক রহমান ২০২২ সালে ৩১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে সব সংস্কার তুলে ধরেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, আমাদের এই সংস্কার কার্যকর করতেই হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিক, সদস্য সচিব হুমায়ূন কবির, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমদ আযম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, সংসদ ভবন হুইপ জি কে গউছ, হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সল, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক নাঈম জাহাঙ্গীর ও সদস্য সচিব সাদেক খান।





