সোমবার, ৬ই এপ্রিল, ২০২৬, ২৩শে চৈত্র, ১৪৩২

নতুন সময়সূচিতে শেয়ারবাজারে ব্যাপক দরপতন, কমেছে লেনদেন

জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে সরকার নতুন অফিস সময়সূচি কার্যকর করার পর দেশের

শেয়ারবাজারে ব্যাপক দরপতন দেখা গেছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম উভয় স্টক এক্সচেঞ্জেই

অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে, পাশাপাশি সূচকগুলোতেও বড় পতন

হয়েছে।

রোববার (৫ এপ্রিল) নতুন সময়সূচি কার্যকর হওয়ার দিনেই এ পরিস্থিতি তৈরি হয়। জ্বালানি

সংকট মোকাবিলায় অফিস সময়ের পাশাপাশি ব্যাংক ও শেয়ারবাজারের লেনদেন সময়েও পরিবর্তন

আনা হয়েছে।

লেনদেন শুরুর পর থেকেই বাজারে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়। অধিকাংশ শেয়ারের দাম কমতে

থাকায় শুরুতেই সূচক ঋণাত্মক হয়ে পড়ে।

দিনের শেষ পর্যন্ত পতনের ধারা অব্যাহত থাকে এবং শেষদিকে তা আরও তীব্র হয়। ডিএসইতে

লেনদেন শেষে মাত্র ২৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে

৩৫৪টির। আর ১১টির দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি।

ভালো লভ্যাংশ প্রদানকারী কোম্পানিগুলোর মধ্যেও পতন বেশি ছিল। এ শ্রেণির ১৭টির দাম

বাড়লেও ১৭৮টির কমেছে এবং ৮টি অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি লভ্যাংশ দেওয়া কোম্পানির

মধ্যে ৪টির দাম বাড়ে, কমে ৭৫টির এবং ১টি অপরিবর্তিত থাকে।

‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪টির দাম বাড়লেও ১০১টির কমেছে এবং ২টির দামে

পরিবর্তন হয়নি। তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে—১টির

দাম বেড়েছে, ৩০টির কমেছে এবং ৩টি অপরিবর্তিত রয়েছে।

অধিকাংশ শেয়ারের দরপতনের কারণে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১০৭ পয়েন্ট কমে ৫

হাজার ১১২ পয়েন্টে নেমে এসেছে। শরিয়াহ সূচক ১৮ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৪১ পয়েন্টে

দাঁড়িয়েছে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৩৫ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯৪৫ পয়েন্টে নেমেছে।

লেনদেনের পরিমাণও কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। এদিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৫১১ কোটি ৯৯

লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় ১১৪ কোটি টাকা কম।

লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষে ছিল এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, যার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৫

কোটি ২৪ লাখ টাকার। এরপর একমি পেস্টিসাইড ও সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট যথাক্রমে

দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে।

এছাড়া শীর্ষ লেনদেন তালিকায় আরও ছিল ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, বাংলাদেশ ন্যাশনাল

ইন্স্যুরেন্স, ওরিয়ন ইনফিউশন, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, জনতা ইন্স্যুরেন্স,

ফাইন ফুডস এবং স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও একই চিত্র দেখা গেছে। সিএএসপিআই সূচক ২২৮

পয়েন্ট কমেছে। বাজারটিতে ১৯০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৩টির দাম বেড়েছে, ১৪৮টির কমেছে

এবং ৯টির দামে পরিবর্তন হয়নি। মোট লেনদেন হয়েছে ৪৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

পোস্টটি শেয়ার করুন