মঙ্গলবার, ৭ই এপ্রিল, ২০২৬, ২৪শে চৈত্র, ১৪৩২

লক্ষ্মীপুরে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন ও পুলিশ সংঘর্ষে ওসিসহ ১০ আহত

লক্ষ্মীপুর সদর পৌর শহরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিবাদ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মাঝেই পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেল পাঁচটার দিকে শহরের চকবাজার এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি থাকা অবস্থায় আন্দোলনকারীরা মিছিল বের করতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে পুলিশ ও আন্দোলনকারীর মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি হয়। এতে পুলিশসহ অন্তত ১০ জন আহত হন, যাদের মধ্যে সদর থানার ওসি মো. ওয়াহিদ পারভেজসহ বেশ কয়েকজনের নাম রয়েছে। একই সময়ে দুজনকে আটকও করেছে পুলিশ। এর আগে, শনিবার (৪ এপ্রিল) রাতে পৌর এলাকার হাসপাতাল রোডে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী হাবিবুর রহমান ও ছাত্রদল-সমর্থিত জুলাই ফাইটার্সের কর্মী আকবর হোসেনের মধ্যে কথা-কাটাকাটির জেরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাস্থলেই দুটি সংগঠনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। এ পরিস্থিতির পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন ঘটনাস্থলে দ‌ুটি‌প‌াশি অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে। লক্ষ্মীপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা এই নির্দেশনা দেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রদল-সমর্থিত জুনিয়া ফাইটার্সের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি, ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে, যার ফলে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ লাঠিপেটা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে জনতা দ্রুত তা থেকে বিচ্ছিন্ন হন। এই সংঘর্ষে পুলিশও আহত হন, বিশেষ করে লক্ষ্মীপুর সদর থানার ওসি মো. ওয়াহিদ পারভেজ। সদর হাসপাতালের আরএমও অরূপ পাল বলেন, ‘ওসি ওয়াহিদ পারভেজের আঙুলে আঘাত লেগেছে, তাঁকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।’ পুলিশি এই সংঘর্ষে অন্তত আরও ৯ জন আহত হন এবং তাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর থেকে অভ্যুত্থানের জন্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ঘটনার সমালোচনা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। আন্দোলনের একজন কর্মী বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা ছিল শান্তিপূর্ণ। কিন্তু পুলিশ নির্ধারিত কর্মসূচিতে যোগ দিতে গেলে বাধা দেয় ও লাঠিপেটা করে আমাদের বেশ কয়েকজনকে আহত করে।’ ছাত্রদল-সমর্থিত জুলাই ফাইটার্সের নেতা আকবর হোসেন অভিযোগ করেন, ‘আদেশে ১৪৪ ধারা জারি থাকলেও আন্দোলনকারীরা তা ভঙ্গ করার চেষ্টা করে এবং পুলিশের বাধায় তারা আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর আক্রমণ করে।’ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজাউল হক বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিকেলে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিলের চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক।’ এই ঘটনার পরে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও এলাকাজুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন