বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি থেকে অবরোধ প্রত্যাহারের জন্য ইরানকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন কঠোর সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তিনি গত রোববার সোশ্যাল মিডিয়ায় এক সংক্ষিপ্ত but গুরুত্বপূর্ণ বার্তায় এই ডেডলাইন ঘোষণা করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে হরমুজ প্রণালিকে বিশ্বের সব দেশের বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করতে হবে। অন্যথায়, ইরানকে ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হওয়ার হুঁশিয়ারিও জানিয়েছেন তিনি।
একই সঙ্গে ট্রাম্প ইরানের অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকি প্রদান করেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি আলোচনা টেবিলে না আসে এবং এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি অবরুদ্ধ রাখতে συνεχায় করে, তবে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ধ্বংসের জন্য প্রস্তুত থাকুন। তিনি স্পষ্ট ভাষ্য দেন, যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে পুরো ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো বোমা মেরে ভেঙে ফেলা হবে। এর আগে গত শনিবারও তিনি লিখেছিলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রণালি না খোলায় ইরানের জন্য জেহান্নামের মত পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে, এবং মঙ্গলবারের দিনটি হবে ইরানের বিদ্যুৎ ও সেতু ধ্বংসের দিন।
হরমুজ প্রণালি আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযুক্ত করে এই পথটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সরু নৌপথ দিয়ে বিশ্বের মোট প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন হয়, যা বিশ্ব জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই রুটের ওপর নির্ভরশীল মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো, এই প্রণালির অচলাবস্থা সারা পৃথিবীর অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে সক্ষম।
এই উত্তেজনার মূল সূত্রপাত ঘটে ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের সরাসরি যুদ্ধ শুরু হয়। এরপরই, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করে এবং জানায় যে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল বা তাদের মিত্রের জাহাজ এই পথ দিয়ে চললে তাদের ওপর হামলা হবে। বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা সংস্থাসমূহের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই প্রণালিতে ১২টির বেশি জাহাজে হামলা ঘটে। এই নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু হু করে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সমালোচকদের পক্ষ থেকে হোয়াইট হাউসের ওপর চাপও তৈরি করছে।
এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও গুরত্বপূর্ণ ও অনিশ্চিত করে তুলছে, যেখানে ট্রাম্পের এই নতুন ডেডলাইন পরিস্থিতিকে এক চরম সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।





