মঙ্গলবার, ৭ই এপ্রিল, ২০২৬, ২৪শে চৈত্র, ১৪৩২

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে অন্তত ৭০ অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ

ইউরোপের উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে সমুদ্র পাড়ি দিতে গিয়ে ভূমধ্যসাগরে আবারও এক

ভয়াবহ নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। লিবিয়া উপকূল থেকে ছেড়ে আসা একটি যাত্রীবাহী কাঠের

নৌকা সাগরে তলিয়ে যাওয়ায় অন্তত ৭০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ হয়েছেন। গত শনিবার

বিকেলে লিবিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন ‘সার্চ অ্যান্ড রেস্কিউ’ (এসএআর) জোনে এই মর্মান্তিক

দুর্ঘটনাটি ঘটে। ইতালীয় উদ্ধারকারী এনজিও সংস্থা ‘মেডিটেরেনিয়া সেভিং হিউম্যান’

(এমএসএইচ) গত রবিবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, নৌকাটি লিবিয়ার উপকূলীয় শহর তাজাউর থেকে যাত্রা

শুরু করেছিল। লিবীয় উপকূল থেকে প্রায় ১২২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বৌরি অয়েল ফিল্ডের

উত্তর-পূর্ব দিকে প্রায় ১৪ নটিক্যাল মাইল গভীরে এটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ডুবে যাওয়া

নৌকাটিতে নারী ও শিশুসহ শতাধিক যাত্রী ছিলেন। এমএসএইচ-এর তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটিতে

মোট ১০৫ জন যাত্রী থাকলেও ল্যাম্পেদুসাভিত্তিক সংবাদ সংস্থা আনসা নিউজ উদ্ধারকৃতদের

বরাত দিয়ে দাবি করেছে যে, যাত্রীর মোট সংখ্যা ছিল প্রায় ১৮০ জন। যাত্রীদের একটি বড়

অংশ সাগরে তলিয়ে যাওয়ায় নিহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে।

এখন পর্যন্ত সমুদ্র থেকে ৩৪ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং দুইজনের

মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জীবিতদের প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য

ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ ল্যাম্পেদুসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সাগরে নিখোঁজদের

সন্ধানে এখনো তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা জানিয়েছেন,

কোস্ট গার্ডের টহল নৌকা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই নৌকাটি মাঝ সমুদ্রে ভারসাম্য

হারিয়ে ডুবে গিয়েছিল, যার ফলে মুহূর্তের মধ্যে অধিকাংশ যাত্রী গভীর জলে তলিয়ে যান।

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মেডিটেরেনিয়া

সেভিং হিউম্যান নিখোঁজদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করার পাশাপাশি ইউরোপীয়

দেশগুলোর বর্তমান অভিবাসন নীতির তীব্র সমালোচনা করেছে। সংস্থাটি বলছে, নিরাপদ এবং

বৈধ অভিবাসন পথ নিশ্চিত না হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এমন

বিপজ্জনক পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছে। তারা অবিলম্বে একটি মানবিক ও নিরাপদ অভিবাসন

কাঠামো গড়ে তোলার জন্য বিশ্বনেতাদের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। ভূমধ্যসাগরকে

নিয়মিত এই ধরণের প্রাণহানি থেকে রক্ষা করতে একটি সমন্বিত ও শক্তিশালী উদ্ধার

ব্যবস্থা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পোস্টটি শেয়ার করুন