মঙ্গলবার, ৭ই এপ্রিল, ২০২৬, ২৪শে চৈত্র, ১৪৩২

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হতে চান ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সংবাদ সম্মেলনে ভেনেজুয়েলায় তাঁর বিপুল

জনপ্রিয়তার দাবি তুলে দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ

করেছেন। সোমবার (৬ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এই সম্মেলনে তিনি অত্যন্ত রসিকতার

ছলে তাঁর এই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানান। ট্রাম্পের এই মন্তব্য বিশ্ব রাজনীতিতে

নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোতে

যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রেক্ষাপটে একে বেশ গুরুত্বের সাথে দেখা

হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর বর্তমান মেয়াদ ও কাজ শেষ

হলে তিনি ভেনেজুয়েলায় যাবেন। তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে জানান যে, তিনি

ভাষা শেখায় বেশ পারদর্শী এবং খুব দ্রুত স্প্যানিশ ভাষা শিখে ফেলবেন। এরপর তিনি

দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পরিকল্পনা করছেন। ট্রাম্পের দাবি

অনুযায়ী, তিনি যদি সেখানে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তবে দেশটির অতীতের

যেকোনো প্রার্থীর চেয়ে বেশি জনসমর্থন ও ভোট পেয়ে জয়ী হবেন। তাঁর এমন মন্তব্যের সময়

উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে হাসির রোল পড়ে গেলেও ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে অনড় ছিলেন।

ভেনেজুয়েলার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে ট্রাম্প দেশটির

ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনের প্রতি তাঁর সন্তুষ্টির কথা জানান। উল্লেখ্য যে, চলতি বছরের ৩

জানুয়ারি মার্কিন বাহিনীর এক বিশেষ অভিযানে ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট

নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা হয়। এরপর

দেশটির বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগ্রেজ ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে

দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি তাঁর পূর্ণ আস্থা

রয়েছে এবং ভেনেজুয়েলার বর্তমান সরকারে ‘ভালো মানুষ’ কাজ করছেন।

ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিবর্তন ও সামরিক পদক্ষেপের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প দাবি

করেন, দেশটিকে ঘিরে যে সংঘাতের আশঙ্কা ছিল তা মার্কিন কৌশলে মাত্র ৪৫ মিনিটের

মধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। এই স্বল্পতম সময়ের অভিযানে অর্জিত সাফল্যকে তিনি তাঁর

প্রশাসনের বড় বিজয় হিসেবে অভিহিত করেন। একই সাথে তিনি দেশটির তেল সম্পদ ব্যবহারের

বিষয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেন। ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে

ভেনেজুয়েলা থেকে কয়েক শত মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করেছে, যা বর্তমানে

হিউস্টনের শোধনাগারগুলোতে পরিশোধন করা হচ্ছে। তিনি আরও যোগ করেন যে, এই বিপুল

পরিমাণ তেলের বাজারমূল্য দিয়েই যুদ্ধের যাবতীয় খরচ বহুবার উঠে এসেছে।

পরিশেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বর্তমানে ভেনেজুয়েলার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে

একটি ‘অংশীদারিত্ব’ হিসেবে বর্ণনা করেন। যদিও তাঁর দেশটিতে নির্বাচন করার বিষয়টি

নিয়ে অনেক বিশ্লেষক একে নিছক হাস্যরস হিসেবে দেখছেন, তবে ভেনেজুয়েলার প্রাকৃতিক

সম্পদ ও ভূ-রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ট্রাম্পের স্পষ্ট অবস্থান ল্যাটিন আমেরিকায়

ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক

বিশেষজ্ঞরা। ট্রাম্পের এই নতুন সমীকরণ আগামী দিনে ওই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও

অর্থনৈতিক কূটনীতিতে কী ধরণের প্রভাব ফেলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

পোস্টটি শেয়ার করুন