বৃহস্পতিবার, ৯ই এপ্রিল, ২০২৬, ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২

ট্রাম্পের ইরানে ‘গুঁড়িয়ে দেওয়ার’ হুঁশিয়ারি

ইরানের সঙ্গে প্রায় ছয় সপ্তাহ ধরে চলা ব্যাপক যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা কোনো সমাধানে পৌঁছানোর আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তেহরান কোন চুক্তিতে না আসলে তিনি এগিয়ে যাবেন ব্যাপক হামলার পথেই। ট্রাম্প এ ঘোষণা দিয়েছেন মঙ্গলবার রাত (যুক্তরাষ্ট্রের সময়) থেকে দেশের বেসামরিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলোর ওপর গুরুতর হামলার নির্দেশ দেওয়ার। হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই হুমকি দেন। গত কয়েক দিন ধরে ইরানের ওপর বিভিন্ন শর্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়, এর আগে তিনি এ বিষয়ে একটি সমযসীমা বেঁধে দিয়েছিলেন, যা ছিল এই মঙ্গলবার রাত ৮টা (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৬টা) পর্যন্ত। 

ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানকে অবশ্যই পারমাণবিক অস্ত্রের मोह ত্যাগ করতে হবে এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে হবে, যা তেলবাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘পুরো দেশটিকে এক রাতেই ধ্বংস করে দেবার ক্ষমতা আমাদের রয়েছে। এবং সেই রাত হতে পারে আগামীকালই (ইরানের সময় বুধবার ভোর)।’ তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এমন পদক্ষেপ নিতে চান না। আবার আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের হাতে এমন পরিকল্পনা রয়েছে যে, বুধবার মধ্যরাতের মধ্যেই ইরানের সব সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করা সম্ভব। সেগুলো আর কখনোই ব্যবহারযোগ্য থাকবে না।’

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘যদি প্রয়োজন হয়, তবে মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যেই পুরো ধ্বংসযজ্ঞ সম্পন্ন করা সম্ভব। তবে আমি চাই না, এমন কিছু যেন ঘটে।’

বেসামরিক স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনাকে অনেক সমালোচক ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তবে সোমবার শিশুদের জন্য হোয়াইট হাউসের লনে আয়োজিত এক ইস্টার অনুষ্ঠানে ট্রাম্প এ সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি এই নিয়ে চিন্তিত নই। যুদ্ধাপরাধের মূল অর্থ কী? তা হলো পারমাণবিক অস্ত্র থাকাই যুদ্ধাপরাধ।’

একই সময়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে সোমবার সবচেয়ে শক্তিশালী হামলা চালানো হয়েছে, এবং মঙ্গলবারের থেকে আরও ভয়াবহ হামলা হয়তো হবে।

এর আগে ট্রাম্প বলেন, ইরান একটি অগ্রসর সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছে যা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হলেও, তার জন্য তাদের কিছু নির্দিষ্ট শর্ত মানতে হবে। তিনি আরও বলেন, ‘তারা জানে তারা কি করতে হবে, এবং আমি বিশ্বাস করি, তারা সদিচ্ছা নিয়েই আলোচনায় বসছে।’

অভিযোগের কোনও প্রমাণ দাবী না করলেও ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অনেক ‘ইন্টারসেপ্ট’ বা আড়ি পাতা বার্তা রয়েছে, যেখানে সাধারণ ইরানিরা তাদের সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য অনুরোধ জানাচ্ছে। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘তারা এই কষ্ট সহ্য করেও মুক্তির স্বাদ পেতে প্রস্তুত’।

পোস্টটি শেয়ার করুন