মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা নিরসনে এক নাটকীয় মোড় হিসেবে মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে।
ইরান কর্তৃক উত্থাপিত ১০ দফা দাবির প্রতি ওয়াশিংটন ‘নীতিগতভাবে’ সম্মতি জানানোর পর
তেহরান এই যুদ্ধবিরতিতে একমত হয়। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই সমঝোতাকে প্রেসিডেন্ট
ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক বিশাল ‘বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করা
হয়েছে। তবে এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের নতুন
করে হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি আবারও জটিল রূপ ধারণ করেছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি কারোলিন লেভেট এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, এই
যুদ্ধবিরতি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সুপরিকল্পিত সামরিক ও কূটনৈতিক কৌশলের ফসল। তিনি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে উল্লেখ করেন, মার্কিন সেনাদের সাহসী পদক্ষেপ এবং
ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির ফলেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তেহরানের সাথে একটি শক্ত
অবস্থানে থেকে আলোচনা করতে সক্ষম হয়েছেন। এই আলোচনার মাধ্যমেই একটি গ্রহণযোগ্য
কূটনৈতিক সমাধান এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তির পথ প্রশস্ত হয়েছে বলে মনে করছে ট্রাম্প
প্রশাসন। ওয়াশিংটনের দাবি অনুযায়ী, তাদের কঠোর সামরিক অবস্থানের কারণেই ইরান
আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবি বুধবার ভোরে নিশ্চিত করেছে
যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাবটি নীতিগতভাবে মেনে নিয়েছে। এই
প্রস্তাবটি মূলত একটি বড় ধরণের চুক্তির জন্য আলোচনার কাঠামো হিসেবে কাজ করবে। যদিও
এই ১০ দফার বিস্তারিত শর্তাবলি এখনো জনসমক্ষে পুরোপুরি উন্মোচন করা হয়নি, তবে
তেহরান মনে করছে তাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়া অঞ্চলটিতে উত্তেজনা হ্রাসের ক্ষেত্রে
একটি বড় ধরণের অগ্রগতি। তেহরান ও ওয়াশিংটনের এই সমঝোতাকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা
একটি বড় কূটনৈতিক মোড় হিসেবে দেখছেন।
তবে মার্কিন-ইরান যুদ্ধবিরতির এই ঘোষণার মাঝেও রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি ভিন্ন বার্তা
দিচ্ছে। বুধবার ভোরেই ইরানে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি
টেলিভিশন চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও ইরান ইসরায়েলের
দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া অব্যাহত রাখায় তারা এই পাল্টা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে।
ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, তারা মূলত ইরানের সেইসব স্থাপনাগুলোকেই লক্ষ্যবস্তু করেছে
যেখান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হচ্ছিল।
Ceasefire বা যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইসরায়েলের এই সরাসরি হামলা মধ্যপ্রাচ্যের
পরিস্থিতিকে আবারও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান
আলোচনার মাধ্যমে শান্ত পরিবেশ তৈরির দাবি করছে, অন্যদিকে ইসরায়েলের অনড় অবস্থান ও
পাল্টাপাল্টি হামলা নতুন কোনো সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে
উদ্বেগ বাড়ছে। আপাতত দুই সপ্তাহের এই সময়কাল সংঘাত নিরসনে কতটা কার্যকর হয়, এখন
সেটিই দেখার বিষয়।





