, ,

চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে প্রবৃদ্ধি

নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও চট্টগ্রাম বন্দর কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে

ধারাবাহিক অগ্রগতি ধরে রেখেছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও শ্রমিক অসন্তোষের প্রভাব

থাকলেও চলতি বছরের শুরুতে কনটেইনার পরিবহনে সামান্য বৃদ্ধি দেখা গেছে।

২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ—এই তিন মাসে বন্দরে মোট ৭ লাখ ৯৯ হাজার কনটেইনার

হ্যান্ডলিং হয়েছে, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৭ লাখ ৯৫ হাজার। অর্থাৎ কনটেইনার

বেড়েছে ৩ হাজার ৮৪৫টি।

তবে একই সময়ে পণ্য হ্যান্ডলিং কমেছে। এ সময়ে মোট ৩ কোটি ৫৯ লাখ টন পণ্য ওঠানামা

হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২ লাখ ৪১ হাজার টন কম।

জাহাজ আগমনেও কিছুটা হ্রাস দেখা গেছে। গত বছরের ১ হাজার ১১১টির বিপরীতে চলতি বছরে

এসেছে ১ হাজার ৮৭টি জাহাজ।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে মোট কার্গো হ্যান্ডলিং

দাঁড়িয়েছে ১০ কোটি ৪২ লাখ ৯৮ হাজার ৬৫৮ টনে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৭

দশমিক ৩৯ শতাংশ বেশি। একই সময়ে বন্দরে ৩২৩০টি জাহাজ এসেছে, যা ৫ দশমিক ৬২ শতাংশ

প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে এককভাবে ২১ দশমিক ১১

শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

অর্থনীতির স্থিতিশীলতা, ডলার সংকটের কিছুটা উন্নতি এবং জ্বালানি, গম ও শিল্প

কাঁচামাল আমদানি বৃদ্ধিকে এই অগ্রগতির পেছনের প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচনা করা

হচ্ছে। পাশাপাশি জাহাজের গড় অবস্থানকাল কমেছে এবং বর্হিনোঙ্গরে অপেক্ষার সময় শূন্যে

নেমে এসেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, ‘বন্দরের দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও

বিভিন্ন সেবার অটোমেশনসহ নানা উদ্যোগের ফলে অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই এ অগ্রগতি সম্ভব

হয়েছে। অর্থবছরের বাকি সময়েও বন্দর কর্তৃপক্ষ এ অগ্রগতি চলমান রাখতে চায়।’

বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত

চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেডের অধীনে যাওয়ার পর কার্যক্রমে গতি এসেছে। ই-গেট এবং

টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম চালুর ফলে দক্ষতা বেড়েছে।

বর্তমানে বন্দরে জাহাজের অপেক্ষার সময় প্রায় নেই। জাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম চার

দিন থেকে কমে ২ দশমিক ৫৩ দিনে নেমে এসেছে। ‘সিপিএ স্কাই’ ও প্রি-অ্যারাইভাল প্রসেস

(পিএপি)-এর মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মও এ উন্নতিতে ভূমিকা রাখছে।

বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, ‘এনসিটি’র কার্যক্রম হস্তান্তরের পর দক্ষতা ১২

থেকে ১৪ শতাংশ বেড়েছে। ঈদুল ফিতরের ছুটিতেও নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম বজায় থাকায়, এ

অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।’

এর মধ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে

উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। এতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয় এবং ভাড়া ২০

থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়।

এ ছাড়া এনসিটি বিদেশি অপারেটরের কাছে লিজ দেওয়ার পরিকল্পনার প্রতিবাদে শ্রমিকদের

দুই সপ্তাহের বিক্ষোভে বন্দর কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছিল।

চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ বলেন, ‘জিরো

ওয়েটিং টাইম’ অর্জন, জাহাজের গড় ‘টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম’ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বার্থ অকুপেন্সি

দক্ষভাবে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ মনে করছে, আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল কার্যক্রম পুরোপুরি

বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে এই প্রবৃদ্ধি আরও জোরদার হবে এবং দেশের আমদানি-রপ্তানি

কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন