তানিম নূর পরিচালিত বহুল আলোচিত চলচ্চিত্র ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ উত্তর আমেরিকার বক্স
অফিসে এক নজিরবিহীন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। মুক্তির মাত্র তিন দিনের মাথায় ছবিটি
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সম্মিলিত (ডোমেস্টিক) বক্স অফিস চার্টে শীর্ষ ২০–এর
তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। প্রথমবারের মতো কোনো বাংলাদেশি সিনেমা এই গৌরবের অধিকারী
হওয়ায় বিশ্ব চলচ্চিত্রে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হলো। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা
এই অর্জনকে বাংলা সিনেমার আন্তর্জাতিক অগ্রযাত্রায় একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন।
বক্স অফিসের আন্তর্জাতিক তথ্য বিশ্লেষণকারী ওয়েবসাইট ‘বক্স অফিস মোজো’-এর
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উত্তর আমেরিকার বাজারে বর্তমানে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর অবস্থান
১৬ নম্বরে। গত তিন দিনে সিনেমাটি মোট ১ লাখ ৫৪ হাজার মার্কিন ডলার আয় করেছে। ছবিটির
উত্তর আমেরিকার পরিবেশক ‘স্বপ্ন স্কেয়ারক্রো’-এর প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ অলিউল্লাহ
সজীব এই অভাবনীয় সাফল্যকে ‘বক্স অফিসে সুনামি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই অর্জনকে অবিশ্বাস্য ও অন্য রকম কিছু
হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, গত ৩ দিনে উত্তর আমেরিকার প্রেক্ষাগৃহগুলোতে যে গণজোয়ার
তৈরি হয়েছে তা অভাবনীয়।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, উত্তর আমেরিকায় এর আগে প্রথম তিন দিনে সর্বোচ্চ
আয়ের রেকর্ড ছিল মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত ‘হাওয়া’ ছবির, যার সংগ্রহের পরিমাণ
ছিল ১ লাখ ৫৯ হাজার ডলার। ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সেই রেকর্ডের অত্যন্ত কাছাকাছি পৌঁছে
নতুন এক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ‘হাওয়া’ এবং ‘বনলতা
এক্সপ্রেস’ ছাড়া এখন পর্যন্ত অন্য কোনো বাংলাদেশি সিনেমা মুক্তির প্রথম তিন দিনে ৬৫
হাজার ডলারের গণ্ডিও স্পর্শ করতে পারেনি। ফলে আয়ের দিক থেকে এই সিনেমাটি শুরুতেই এক
অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেছে।
আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, মাত্র তিন দিনের ‘ওপেনিং’ আয় দিয়ে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’
ইতিমধ্যে উত্তর আমেরিকায় সর্বকালের চতুর্থ সর্বোচ্চ আয়কারী বাংলাদেশি সিনেমার
মর্যাদা লাভ করেছে। এর মাধ্যমে ছবিটি শাকিব খান অভিনীত ‘তুফান’ (১ লাখ ৫০ হাজার
ডলার), ‘প্রিয়তমা’ (১ লাখ ৩২ হাজার ডলার) এবং জয়া আহসান অভিনীত ‘দেবী’র (১ লাখ ২৫
হাজার ডলার) আজীবনের আয়ের রেকর্ড টপকে গেছে। পরিবেশক অলিউল্লাহ সজীবের ধারণা,
বর্তমান গতি বজায় থাকলে প্রথম সপ্তাহ শেষ হওয়ার আগেই এটি ‘হাওয়া’র লাইফটাইম আয়ের (৩
লাখ ৫৮ হাজার ডলার) রেকর্ডকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে এবং উত্তর আমেরিকার বাজারে
সর্বকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয়কারী বাংলাদেশি সিনেমায় পরিণত হতে পারে।
তানিম নূর নির্দেশিত এই চলচ্চিত্রে দেশের একঝাঁক তুখোড় অভিনয়শিল্পী অভিনয় করেছেন।
প্রধান চরিত্রে দেখা গেছে মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, শরীফুল রাজ ও সাবিলা নূরকে।
এ ছাড়াও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন শ্যামল মাওলা, জাকিয়া বারী মম,
আজমেরী হক বাঁধন, শামীমা নাজনীন, ইন্তেখাব দিনার এবং আরেফিন জিলানীর মতো জনপ্রিয়
তারকারা। ‘বুড়িগঙ্গা টকিজ’ প্রযোজিত এবং ‘হইচই স্টুডিওস’ সহ-প্রযোজিত এই
চলচ্চিত্রটি বর্তমানে উত্তর আমেরিকার টরন্টো, ভ্যাঙ্কুভার, নিউইয়র্ক, ডালাস,
হিউস্টন ও ওয়াশিংটন ডিসিসহ যুক্তরাজ্যের লন্ডন ও বার্মিংহামের গুরুত্বপূর্ণ
প্রেক্ষাগৃহে সফলতার সাথে প্রদর্শিত হচ্ছে। সুস্থ ধারার চলচ্চিত্রের এই বিশ্বজয়ী
জয়যাত্রা দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য এক নতুন আশার বার্তা নিয়ে এসেছে।





