বৃহস্পতিবার, ৯ই এপ্রিল, ২০২৬, ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২

যুদ্ধবিরতির খবরে ইসরায়েলে ক্ষোভ ও বিস্ময়

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আকস্মিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় ইসরায়েলে ব্যাপক

বিস্ময় ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার সকালে ঘুম থেকে উঠে অনেক ইসরায়েলি নাগরিক

জানতে পারেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ও তেহরান একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে- যা ঘোষণার

কয়েক ঘণ্টা আগেও ছিল কল্পনাতীত।

এই যুদ্ধবিরতি এমন এক সময়ে এলো, যখন ইসরায়েলের ভেতরে সামরিক অভিযানের প্রতি ব্যাপক

জনসমর্থন ছিল। ফলে হঠাৎ এই বিরতি অনেকের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি করেছে, ইরান পুরোপুরি

দুর্বল না হয়েই আবারও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় হুমকি হয়ে

দাঁড়াতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের এই

সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছে। একই সঙ্গে তারা বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি ব্যবস্থা

নিশ্চিত করতে কাজ করবে যাতে ইরান আর কখনো পারমাণবিক, ক্ষেপণাস্ত্র বা সন্ত্রাসী

হুমকি হয়ে না দাঁড়ায়। ইসরায়েলের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দাবি করেছেন, এই যুদ্ধবিরতি

আগে থেকেই ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে করা হয়েছে।

তবে ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতারা এই দাবিকে তীব্রভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।

বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার ল্যাপিড একে ইসরায়েলের ইতিহাসে ‘সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বিপর্যয়’

বলে অভিহিত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ

সিদ্ধান্তে ইসরায়েলকে কার্যত বাইরে রাখা হয়েছে। তার মতে, এই সিদ্ধান্তের কৌশলগত

ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বহু বছর সময় লাগবে।

ডানপন্থী রাজনীতিক অ্যাভিগডর লিবারম্যান বলেন, এই যুদ্ধবিরতি ইরানের ধর্মীয় শাসকদের

জন্য আবারও সুসংগঠিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। তিনি সতর্ক করেন—ইরানের পারমাণবিক

কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন ও আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি

সমর্থন বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠিন পরিস্থিতিতে আবারও সংঘাতের সূচনা হতে পারে।

বামপন্থী নেতা আইর গোলান অভিযোগ করেছেন, নেতানিয়াহু জনগণকে ‘ঐতিহাসিক বিজয়ের’

প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তা একটি বড় কৌশলগত ব্যর্থতায় পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে,

ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলি নেতা আয়মান ওদেহ এই যুদ্ধ থেকে তিনটি শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান

জানিয়েছেন। শক্তির সীমাবদ্ধতা স্বীকার, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তির প্রয়োজনীয়তা এবং

রাজনৈতিক নেতৃত্বের জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথা তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, রাজনৈতিক নির্দেশনা অনুযায়ী তারা ইরানে

হামলা বন্ধ করেছে। তবে লেবাননে অভিযান অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে হিজবুল্লাহর

বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তারা। ফলে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও অঞ্চলে

উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি।

পোস্টটি শেয়ার করুন