ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান চাপাপন্ন পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ছে, বিশেষ করে জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় সরকার শক্তিশালী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি, আন্তর্জাতিক জলবায়ু পরিস্থিতি ও ভৌগোলিক অস্থিরতার কারণে দেশের জ্বালানি মজুদ আরও সূদৃঢ় করার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ৩ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুধবার সকালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ ভবনে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থনৈতিক এ মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এই তিনটি পৃথক প্রস্তাব উপস্থাপন করে। প্রথমত, সুইজারল্যান্ডের ‘ইয়ার এনার্জি এজি’ থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন মানসম্মত ডিজেল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। দ্বিতীয়ত, ‘কে অ্যান্ড আর ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং কোম্পানি’ থেকে আরও ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আনা হবে। এবং তৃতীয়ত, ‘সিকদার ইন্টারন্যাশনাল’ থেকে একই পরিমাণ, অর্থাৎ ১ লাখ টন ডিজেল আমাদানি করার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনটি প্রস্তাবই জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে উপস্থাপিত হয় এবং অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এগুলো নীতিগতভাবে অনুমোদন দিয়েছে।
বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা ও সরবরাহের সমস্যা এড়াতে, সরকার বিভিন্ন দফায় জ্বালানি আমদানির অনুমোদন দিচ্ছে। এর আগেও গত শনিবার ছুটির দিনেও বিশেষ ব্যবস্থা নিয়ে ১ লাখ টন ডিজেল কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা যাতে দেশের বিদ্যুৎ ও পরিবহন খাত ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য এই ধরনের আগাম প্রস্তুতি হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।





