উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগের হাইভোল্টেজ ম্যাচে
নিজেদের মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে দাপুটে ফুটবল খেলেও পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ পেয়েছে
বার্সেলোনা। ম্যাচের অর্ধেকেরও বেশি সময় একজন কম নিয়ে খেলার সুযোগ পূর্ণ সদ্ব্যবহার
করে ২-০ গোলের গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নিয়েছে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ। এই জয়ের মাধ্যমে
সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে বড় ধরণের সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে গেল দিয়েগো সিমিওনের
শিষ্যরা। অন্যদিকে, অসংখ্য সুযোগ তৈরি করেও ফিনিশিংয়ের ব্যর্থতায় ঘরের মাঠে বড়
ধাক্কা খেলেন হ্যান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা।
ম্যাচটি অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ এবং তাদের অভিজ্ঞ কোচ দিয়েগো সিমিওনের জন্য এক বিশেষ
মাইলফলক হয়ে থাকবে। ২০০৬ সালের পর থেকে কখনোই ক্যাম্প ন্যুতে বার্সেলোনাকে হারাতে
পারেনি অ্যাতলেটিকো। দীর্ঘ ১৯ বার চেষ্টার পর এই প্রথম বার্সার দুর্গে জয়ের দেখা
পেলেন সিমিওনে। মাঠের লড়াইয়ে বার্সেলোনা ৫৮ শতাংশ বলের দখল ধরে রেখে মোট ১৮টি শট
নিয়েছিল, যার মধ্যে ৭টিই ছিল লক্ষ্যভেদী। বিপরীতে অ্যাতলেটিকো মাত্র ৫টি শটের মধ্যে
৩টি লক্ষ্যে রেখেই দুই গোল আদায় করে নেয়। ফিনিশিংয়ের এই নিখুঁত দক্ষতাই মূলত দুই
দলের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল বার্সেলোনা। দ্বিতীয় মিনিটেই মার্কাস
রাশফোর্ড একটি সুবর্ণ সুযোগ পেলেও তাঁর শট সরাসরি অ্যাতলেটিকো গোলরক্ষকের হাতে জমা
হয়। এরপর তরুণ তুর্কি লামিনে ইয়ামাল এবং রাশফোর্ড বারবার প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে
ভীতি ছড়ালেও গোলমুখ খুলতে ব্যর্থ হন। ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় ৪৩তম মিনিটে, যখন
বার্সার তরুণ ডিফেন্ডার পাউ কুবারসি জুলিয়ানো সিমিওনেকে ফাউল করেন। রেফারি শুরুতে
হলুদ কার্ড দেখালেও ভিএআর (VAR) পরীক্ষার পর সরাসরি লাল কার্ডের নির্দেশ দেন। এই
সিদ্ধান্তের ফলে বিরতির ঠিক আগেই ১০ জনের দলে পরিণত হয় বার্সেলোনা।
১০ জনের বার্সেলোনার ওপর মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিতে দেরি করেনি মাদ্রিদ ক্লাবটি।
কুবারসির করা ফাউলের সুবাদে বক্সের ঠিক বাইরে পাওয়া ফ্রি-কিক থেকে জাদুকরী এক গোল
করেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজ। এই গোলের মাধ্যমে তিনি চ্যাম্পিয়ন্স
লিগের চলতি মৌসুমে নিজের নবম গোল পূর্ণ করেন এবং ক্লাবের হয়ে এই প্রতিযোগিতার এক
আসরে সর্বোচ্চ গোলের নতুন রেকর্ড গড়েন। প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে পাওয়া এই
গোলটি ম্যাচের চিত্রপট পুরোপুরি বদলে দেয়।
দ্বিতীয়ার্ধে একজন কম নিয়ে খেললেও সমতায় ফিরতে মরিয়া ছিল বার্সেলোনা। ৫০ মিনিটের পর
ইয়ামালের বাড়ানো চমৎকার এক থ্রু বল নিয়ে গোলরক্ষককে কাটালেও রাশফোর্ডের শট পাশের
জালে লাগে। এরপর ইয়ামালের কর্নার থেকে গাভির দুর্দান্ত হেডে জুলস কুন্দে পা ছোঁয়াতে
ব্যর্থ হলে গোলবঞ্চিত হয় কাতালানরা। তবে ৭০ মিনিটে ধারার বিপরীতে এক পাল্টাপাল্টি
আক্রমণে ব্যবধান দ্বিগুণ করে অ্যাতলেটিকো। বদলি হিসেবে নামা আলেক্সান্ডার সরলথ
সতীর্থের ক্রস থেকে দর্শনীয় এক ভলিতে বল জালে জড়িয়ে জয় নিশ্চিত করেন। শেষ দিকে
বার্সা আর কোনো কার্যকর আক্রমণ গড়তে না পারায় ২-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে
সফরকারীরা।
ঘরের মাঠে এই হার বার্সেলোনার সেমিফাইনালের স্বপ্নকে খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে।
আগামী মঙ্গলবার মাদ্রিদের মেত্রোপলিতানো স্টেডিয়ামে ফিরতি লেগে মুখোমুখি হবে এই দুই
দল। দুই গোলের এই বড় ব্যবধান ঘুচিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছানো বার্সার জন্য এক কঠিন
পরীক্ষা হতে যাচ্ছে, বিশেষ করে গত ফেব্রুয়ারি মাসে ওই ভেন্যুতে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত
হওয়ার স্মৃতি যখন এখনো তাজা। আপাতত দিয়েগো সিমিওনের দলের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে থাকলেও
মঙ্গলবার রাতে স্প্যানিশ ফুটবলের এই দুই পরাশক্তির লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কারা শেষ
চারে জায়গা করে নেয়, তা দেখার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।





