বাংলাদেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে নতুন আইনগত পদক্ষেপ।
সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তি বা সত্তা এবং তাদের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার
বিধান যুক্ত করে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন)
অধ্যাদেশ অনুমোদন করেছে জাতীয় সংসদ। ফলে নিষিদ্ধই থাকছে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম।
বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে জাতীয় সংসদে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর
মধ্য দিয়ে পূর্বে জারি করা নিষেধাজ্ঞা আইনগত ভিত্তি পেল। এদিন আরো ছয়টি বিল সংসদে
পাস হয়েছে। সেগুলো হলো-জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা ও দায়
নির্ধারণের লক্ষ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন, ২০২৬,
‘সরকারি হিসাব নিরীক্ষা আইন, ২০২৬’, ‘প্রোটেকশন অ্যান্ড কনসারভেশন অব ফিস
(এমেনমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’, ‘শেখ হাসিনা পল্লী উন্নয়ন একাডেমি জামালপুর (সংশোধন)
আইন, ২০২৬’ ও ‘পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাষণ কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ এবং
‘জাতির পিতার পরিবার-সদস্যদের নিরাপত্তা আইন, ২০০৯’।
‘জাতির পিতার পরিবার-সদস্যদের নিরাপত্তা আইন, ২০০৯’ রহিত কবার শেখ পরিবারের
সদস্যদের জন্য বরাদ্দকৃত বিশেষ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাসহ অন্য সুবিধাও বাতিল হলো।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশটি বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করেন
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের ১৫ অক্টোবর ‘জাতির
পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা আইন, ২০০৯’ গেজেট আকারে জারি করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে ২০১৫ সালের ২৫ মে এই আইনের অধীনে পরিবারের সদস্যদের বিশেষ নিরাপত্তা ও
সুবিধাদি প্রদানের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কেবল একটি পরিবারের সদস্যদের রাষ্ট্রীয় বিশেষ সুবিধা প্রদানের
জন্য আইনটি করা হয়েছিল, যা ছিল একটি সুস্পষ্ট বৈষম্য। এই বৈষম্য দূর করতে
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আইনটি রহিত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়।
রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ‘জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের
নিরাপত্তা (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ, ২০২৪’ জারি করা হয়। সেই অধ্যাদেশটিই এখন স্থায়ী বিল
আকারে সংসদে পাস করা হলো।
প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে করা এ আইনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর
রহমানের জীবিত দুই কন্যা এবং তাদের সন্তানদের জন্য আজীবন বিশেষ নিরাপত্তা ও
রাষ্ট্রীয় বাসভবনসহ নানা সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা ছিল। বুধবার বিলটি পাসের মাধ্যমে
সেই আইনি বাধ্যবাধকতা ও সুবিধা বিলুপ্ত হলো।
২০২৫ সালের ১২ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে আওয়ামী লীগ এবং এর
অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সব সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে অধ্যাদেশ জারি
করেছিল। অধ্যাদেশের মাধ্যমে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সংশোধনী এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ
ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার নেতাদের বিচার কার্যসম্পন্ন না হওয়া
পর্যন্ত দলটির যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকার নতুন এই বিলের মাধ্যমে
সেই অধ্যাদেশকে আইনে রূপ দিল। ফলে দেশের অন্যতম প্রাচীন দল আওয়ামী লীগ ও এর
অঙ্গসংগঠনগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা বহালই থাকল।
বুধবার সকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হলে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বিলটি উত্থাপন করেন। পরে তিনি বিলটি অবিলম্বে
বিবেচনা এবং পাসের প্রস্তাব তুললে কণ্ঠভোটে তা গৃহীত হয়।
অন্য বিলগুলোর মধ্যে ‘শেখ হাসিনা পল্লী উন্নয়ন একাডেমি জামালপুর (সংশোধন) বিল’
পাসের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির নাম থেকে ‘শেখ হাসিনা’র নাম বিলুপ্ত করার প্রস্তাব
অনুমোদন করা হয়। বিলগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং মন্ত্রীর পক্ষে
প্রতিমন্ত্রীরা উত্থাপন করেন। বিশেষ কমিটির কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় বিলগুলো
সরাসরি পাসের প্রক্রিয়ায় যায়।
বিলে বলা হয়েছে, বর্তমান আইনে কোনো সত্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিষয়ে সুস্পষ্ট
বিধান না থাকায় আইনটি সময়োপযোগী করতে ১৮ ও ২০ ধারা সংশোধন প্রয়োজন হয়েছে। সেই
যুক্তিতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ‘সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ,
২০২৫’ রহিত করে নতুন আইন আনা হচ্ছে।
এই সংশোধনীর মাধ্যমে ২০০৯ সালের আইনের ১৮ ধারায় ‘সত্তাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা ও তফসিলে
তালিকাভুক্ত করিতে পারিবে’ শব্দগুলোর পর ‘বা সত্তার যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা
করিতে পারিবে’ শব্দগুলো যুক্ত হয়েছে। আর ২০ ধারার সংশোধনে বলা হয়েছে, ধারা ১৮
অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি বা সত্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে সরকার তাদের অর্থ,
সম্পদ বা লেনদেন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি প্রচার-প্রচারণাও বন্ধ করতে পারবে।
বিলের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সত্তা কর্তৃক বা তার পক্ষে বা সমর্থনে ‘যে কোনো প্রেস
বিবৃতির প্রকাশনা বা মুদ্রণ কিংবা গণমাধ্যম, অনলাইন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা
অন্য যে কোনো মাধ্যমে যে কোনো ধরনের প্রচারণা, অথবা মিছিল, সভা-সমাবেশ বা সংবাদ
সম্মেলন আয়োজন বা জনসম্মুখে বক্তৃতা প্রদান’ নিষিদ্ধ করা যাবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ বিল উত্থাপন করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
এ বিলে বলা হয়েছে ২০২৬ সালের ২৫ জানুয়ারি কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে এবং ২০২৪
সালের ১ জুলাই থেকে বলবৎ হয়েছে বলে গণ্য হবে।
বিলে বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে গণঅভ্যুত্থানকারীদের
বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সব দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা উপ-ধারা (২)
এর বিধান অনুসরণপূর্বক প্রত্যাহার করা হবে এবং ধারা ৫ এর বিধান সাপেক্ষে,
এতদসম্পর্কিত নূতন কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা
গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের আইনত বারিত হবে।
এ বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কিত বিবৃতিতে বলা হয়- বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা ২০২৪
সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন ঘটানোর মাধ্যমে গণতন্ত্র,
মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সর্বাত্মক গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ
করে, যা পরবর্তীকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন ফ্যাসিবাদী সরকারের নির্দেশে পরিচালিত নির্বিচার
হত্যাকাণ্ড ও সশস্ত্র আক্রমণ প্রতিরোধ এবং জনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার ও নিশ্চিত করার
নিমিত্ত আত্মরক্ষাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে উক্ত প্রতিরোধকর্ম
এবং জনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার ও নিশ্চিত করিবার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী
গণঅভ্যুত্থানকারীদের গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৬ অনুযায়ী
সুরক্ষা প্রদান করা প্রয়োজন মর্মে প্রতীয়মান হয়।
সুতরাং জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন অংশগ্রহণকারী গণঅভ্যুত্থানকারীদের সুরক্ষার
জন্য এ ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) বিল, ২০২৬’ প্রণয়ন করা
প্রয়োজন। এ পরিপ্রেক্ষিতে বর্ণিত অধ্যাদেশটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে অনুমোদনের জন্য
বিল আকারে উপস্থাপন করা প্রয়োজন।
বিল উত্থাপনের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ এর অধিকতর
সংশোধনকল্পে আনিত একটি বিল সন্ত্রাস বিরোধী সংশোধন বিল ২০২৬ এই মহান সংসদে উত্থাপন
করছি।
পরে অবিলম্বে বিবেচনার প্রস্তাব তুলে তিনি বলেন, সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ এর
অধিকতর সংশোধনকল্পে আনিত বিলটি সন্ত্রাস বিরোধী সংশোধন বিল ২০২৬ মহান সংসদ উত্থাপিত
আকারে অবিলম্বে বিবেচনার জন্য গ্রহণ করা হোক।
স্পিকার কণ্ঠভোটে প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে বলে ঘোষণা দেন। বিলটির ওপর দফাওয়ারি কোনো
সংশোধনী ছিল না। এরপর দফা ২, ৩ ও ৪, পরে ১ নম্বর দফা, বলবৎকরণ দফা, প্রস্তাবনা,
প্রবর্তন ও শিরোনাম কণ্ঠভোটে গৃহীত হয়।
বিল পাসের আগে বিরোধীদলীয় নেতা কথা বলার সুযোগ নিয়ে বলেন, বিলটির তুলনামূলক বিবরণী
তারা মাত্র তিন থেকে চার মিনিট আগে হাতে পেয়েছেন। আইনটি ‘স্পর্শকাতর’ হওয়ায় তিনি
এটি পাসের আগে কিছুটা সময় দিয়ে বিরোধী দলকে বিষয়টি দেখার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ
জানান।
জবাবে স্পিকার বলেন, আপত্তি জানানোর জন্য নির্দিষ্ট সময় ছিল, সেই পর্যায়ে আপত্তি
এলে তা বিবেচনা করা যেত। এখন বিলের এই স্টেজে আর আপত্তি করার সুযোগ নাই।
এরপর বিলটির পক্ষে বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই বিলটা হল একটি গণহত্যাকারী
সন্ত্রাসী সংগঠনের নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত একটা অ্যামেন্ডমেন্ট।
তিনি বলেন, আগের আইনে সংশোধনের পেছনে একটি আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ছিল এবং সেই
প্রেক্ষিতে এটা মোটামুটি বাংলাদেশে একটা জনমত সৃষ্টি হয়েছিল।
স্পিকারও এ সময় বলেন, সন্ত্রাস বিরোধী আইন সংশোধনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের
কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী তাদের নিবন্ধনও স্থগিত রয়েছে। পরে
সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদের আলোকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-সংক্রান্ত আইনেও
পরিবর্তন আনা হয়েছে।
এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিলটি পাসের প্রস্তাব তুললে কণ্ঠভোটে তা গৃহীত হয়।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসী কার্য প্রতিরোধ ও
শাস্তির বিধান রাখতে ২০০৯ সালের আইনটি করা হলেও কোনো ব্যক্তি বা সত্তা সন্ত্রাসী
কার্যক্রমে জড়িত থাকার যুক্তিসঙ্গত কারণ পেলে সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে
ব্যক্তিকে তফসিলে তালিকাভুক্ত বা সত্তাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা ও তালিকাভুক্ত করতে পারত,
কিন্তু তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিষয়টি স্পষ্ট ছিল না।
যেভাবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ: ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী
লীগের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। দলটির নেতা শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রিত্ব ছেড়ে
ভারতে পালিয়ে যান। তার তিন দিনের মাথায় মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী
সরকার দায়িত্ব নেয়। জুলাই-অগাস্টের অভ্যুত্থানের সময় হতাহতের ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ
আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, এমপিসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ডজন ডজন মামলা
হতে থাকে।
আওয়ামী লীগের সময়ে যে ট্রাইব্যুনাল গঠন করে শীর্ষ জামায়াত নেতাদের একাত্তরের
যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছিল, সেই একই ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনাসহ তার
সহযোগীদের বিচারের উদ্যোগ নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। অভ্যুত্থান দমাতে গিয়ে হত্যাসহ
মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে পরে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডও দেওয়া হয়।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই দলটিকে নিষিদ্ধ করার দাবি ছিল অভ্যুত্থানের
নেতৃত্বে থাকা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের। ওই দাবিতে ২০২৫ সালের মে মাসে
জোরালো আন্দোলন শুরু হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে ওই আন্দোলনের নেতৃত্বে
ছিলেন অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতাদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক
হাসনাত আবদুল্লাহ। জামায়াতে ইসলামী, এবি পার্টি, ইসলামী ছাত্রশিবির, ইসলামী আন্দোলন
বাংলাদেশ, হেফাজতে ইসলাম এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীসহ বিভিন্ন ছাত্র
সংগঠনের নেতাকর্মীরা এ কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করেন।
ওই আন্দোলনের মধ্যে ১০ মে রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের
উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি বৈঠক বসে। পরে সংবাদ সম্মেলনে এসে তখনকার আইন উপদেষ্টা আসিফ
নজরুল আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত জানান। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আন্তর্জাতিক
অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন সংশোধনের গেজেট জারি হয়।
আইনের দুটি ধারায় ওই সংশোধনের মধ্য দিয়ে সম্ভাব্য মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত
রাজনৈতিক দল বা সংগঠন, তার অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠন বা সমর্থক গোষ্ঠীর বিচারের সুযোগ
তৈরি করার পাশাপাশি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয় ট্রাইব্যুনালকে।
সেখানে বলা হয়, কোনো সংগঠন যেমন রাজনৈতিক দল বা তার সহযোগী কোনো সত্তা যদি এ আইনের
আওতাভুক্ত কোনো অপরাধে জড়িত থাকে বলে ট্রাইব্যুনালের কাছে প্রতীয়মান হয়, তাহলে ওই
সংগঠনের কার্যক্রম স্থগিত বা নিষিদ্ধ করা, নিবন্ধন বা লাইসেন্স বাতিল এবং সম্পত্তি
বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা ট্রাইব্যুনালের থাকবে।
সংশোধনী বিল পাস হওয়ার পর দেশের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পদক্ষেপ সন্ত্রাসী
কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আর আইনজীবীরা মনে করছেন, বিধান অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তারা সতর্কভাবে আইন প্রয়োগ
করবেন এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠন বা ব্যক্তিকে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দণ্ডনীয়
ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।





