শনিবার, ১১ই এপ্রিল, ২০২৬, ২৮শে চৈত্র, ১৪৩২

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিধান সম্পন্ন

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে নতুন আইন প্রণয়ন। দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশটি এখন বিলের মাধ্যমে বৈধতা পেয়েছে। এর ফলে, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম আইনত নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হচ্ছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে এই বিল পাস হয়, যা পূর্বে জারি করা নিষেধাজ্ঞার আইনগত ভিত্তি প্রদান করল। এর পাশাপাশি আরো ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিলও গৃহীত হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণের আইন, ২০২৬, সরকারি হিসাব নিরীক্ষা আইন, ২০২৬, প্রোটেকশন অ্যান্ড কনসারভেশন অব ফিস (এমেনমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬, শেখ হাসিনা পল্লী উন্নয়ন একাডেমি জামালপুর (সংশোধন) আইন, ২০২৬, পানিসরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাষণ কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) আইন, ২০২৬ এবং জাতির পিতার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা আইন, ২০০৯। সেই সঙ্গে, এই আইন দ্বারাই শেখ পরিবারের জন্য বরাদ্দ করা বিশেষ নিরাপত্তা ও অন্যান্য সুবিধাগুলো বাতিল করে দেওয়া হবে। অল্প সময়ে প্রস্তুত এই বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বিবৃতিতে জানানো হয়, ২০০৯ সালে জারি হওয়া জাতির পিতার পরিবারের নিরাপত্তা আইনটি কেবল একটি নির্দিষ্ট পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য ছিল। তবে, সময়ের সাথে সঙ্গে এই বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যেই অবৈধ ও অপ্রয়োজনীয় এ আইন রহিত করা হয়। নতুন বিধান অনুযায়ী এই বিশেষ নিরাপত্তা ও সুবিধা দেয়া বন্ধ হবে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ‘জাতির পিতার পরিবারের নিরাপত্তা (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ, ২০২৪’ জারি করা হয়, যা এখন সংসদে বিল আকারে পাস হলো। উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবিত দুই কন্যা ও তাদের সন্তানদের জন্য আজীবন নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় বাসভবনসহ নানা সুবিধা দেয়া হয়েছিল। তবে, বুধবারের এই পাসের মাধ্যমে সেই আইনি বন্দোবস্তগুলো শেষ হয়ে যায়। ২০২৫ সালের মে মাসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপন জারি করে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ, সহযোগী সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে, যেখানে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সংশোধনী আনা হয়। এই আইনের মাধ্যমে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও নেতাদের বিচার কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলটির কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তীতে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন শেষে ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকার এই নতুন বিলের মাধ্যমে সেই অধ্যাদেশকে বাস্তবায়ন করে। ফলে, দেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনগুলো এখনো নিষিদ্ধের তালিকায় অবস্যস্থ। বুধবার সকাল থেকে বৈঠকের মাধ্যমে এই বিল উত্থাপন শুরু হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এটি উত্থাপন করেন এবং কণ্ঠভোটে সঙ্গে সঙ্গে পাস হয়। অন্য বিলগুলোর মধ্যে রয়েছে- শেখ হাসিনা পল্লী উন্নয়ন একাডেমি জামালপুরের নাম থেকে ‘শেখ হাসিনা’র নাম কেটে ফেলার প্রস্তাব। সংশোধনীতে জানানো হয়, current আইনে কোনো সত্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার স্পষ্ট বিধান না থাকায় প্রয়োজন হলে নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই জন্য, অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য জারি করা ‘সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ বাতিল করে নতুন আইন আনা হচ্ছে। সংশোধনীতে বলা হয়, যে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন এই আইন অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করলে সরকার তাদের অর্থ, সম্পদ, প্রচারণা ও জনসম্মুখে বক্তৃতা বন্ধ করতে পারবে। বিলের ভাষ্য অনুযায়ী, এই কার্যক্রমের জন্য প্রেস বিবৃতি, মুদ্রণ বা অনলাইন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা বা জনসম্মুখে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা যাবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন্তব্য করেন, এই বিলটি একটি মূলত সন্ত্রাসী সংগঠন বা ব্যক্তির কার্যক্রম নিষিদ্ধের ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ দমনমূলক পদক্ষেপ। পাশাপাশি, এই আইন সময়োপযোগী এবং প্রয়োজনীয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে, ২০০৯ সালের আইন সংশোধন করে নতুন শর্ত যোগ করা হয়েছে, যাতে স্পষ্টভাবে কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিধান থাকা যায়। সংক্ষিপ্তভাবে বলতে গেলে, এ পরিবর্তনের ফলে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনগুলোকে নিষিদ্ধের কার্যক্রম আরও জোরদার হলো, যা দেশের অখণ্ডতা এবং নিরাপত্তা বজায় রাখতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলে মনে করছে বিশ্লেষকরা।

পোস্টটি শেয়ার করুন