বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী ব্যবহার সংক্রান্ত নীতিতে পরিবর্তন আনল ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কঠোর শর্তের Framework দিয়ে, এখন থেকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৫টি জাহাজ এই পথে চলাচল করতে পারবে। এই তথ্য জানানো হয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তাসংস্থা তাসের প্রতিবেদনে।
প্রমাণিত হয়েছে যে, পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরকে সংযুক্ত করে থাকা এই প্রণালীটি প্রায় ৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখের আগে, অর্থাৎ সংঘাতের আগের সময়, প্রতিদিন গড়ে ১৪০টির বেশি জাহাজ এই রুটে চলাচল করত। তবে, ইরান যখন এই প্রণালীতে অবরোধ আরোপ করল, তখন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহে চাপ সৃষ্টি হয় এবং তা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
অতিরিক্তভাবে, এই রুটটি শুধুমাত্র তেল নয়, বরং সার, পেট্রোকেমিক্যাল ও অন্যান্য পণ্যের জন্যেও অপরিহার্য হওয়ায়, সংঘাতের ফলে এসব খাতেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হয় গত ৭ এপ্রিল ১৪ দিন সময়ের জন্য। এই সময়ে পাকিস্তানে উভয় পক্ষের শান্তি প্রস্তাব নিয়ে পরস্পরের সঙ্গে আলোচনা চলবে। এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের ১৫টি এবং ইরানের ১০টি শর্ত উপস্থাপন করা হয়েছে।
তাসের তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতি মানলেও, ইরান এই শর্ত আরোপ করেছে যে, দৈনিক সর্বোচ্চ ১৫টি জাহাজ এই পথে চলাচল করবে। এই জাহাজের গতিবিধি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলবে এবং ইরানের অনুমোদনের ওপর ভিত্তি করে তদারকি করবে দেশের সামরিক বাহিনী, বিশেষ করে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা বলেন, ‘হরমুজ প্রণালী দিয়ে যে কোনো বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল এখন থেকে খুবই কঠোরভাবে ইরানের অনুমোদন ও নির্দিষ্ট প্রোটোকল অনুযায়ী পরিচালিত হবে। এই সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে আঞ্চলিক সবাইকে জানানো হয়েছে। যুদ্ধের আগে যেমন ছিল স্থিতিশীলতা, এখন তার ফিরে আসার কোনো সম্ভাবনা দেখছি না।’





