নতুন বছরের সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রামের বন্দরনগরী ব্যাপক উৎসবের আবহে পরিণত হয়েছে। বর্ষবরণের এই অনুষ্ঠানের শুরু হয়েছে বৈশাখী শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে, যা শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। সকালে নগরজুড়ে নানা ধরনের রঙিন অনুষ্ঠান ও আনন্দঘন পরিবেশে চলে বর্ষবরণের নানা কর্মসূচি।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে ৯টায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক বিশাল বৈশাখী শোভাযাত্রা বের হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ও চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান। এই শোভাযাত্রার পথ ছিল সার্কিট হাউজ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সড়ক দিয়ে ডিসি হিল ধরে শেষ হয়, যেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে অংশ নেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ Diverse পেশাজীবী কর্মীরা।
অন্যদিকে, ডিসি হিল, সিআরবি শিরিষতলা এবং শহীদ মিনার এলাকাগুলোতে সকাল থেকেই মানুষের ভিড় বাড়তে দেখা গেছে। উৎসবে মেতে উঠেছেন পরিবারসহ নগরবাসী, লাল-সাদা পোশাকে সাজসজ্জা করে। শোভাযাত্রার শেষে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে সিআরবি শিরিষতলাতেও চলবে গান, নাচ ও লোকজ পরিবেশনা।
কাজীর দেউড়ি থেকে ডিসি হিল পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কে রঙিন বৈশাখী আলপনা আঁকা হয়েছে, যা সকলের নজর কেড়েছে। এই আলপনা ও সাজসজ্জা উৎসবের আমেজ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সাংস্কৃতিক কর্মী সাদিকুল ইসলাম জানান, করোনা মহামারি এবং রমজানের জন্য কয়েক বছর পয়লা বৈশাখে বিভিন্ন ধরনের আয়োজন ব্যাহত হয়েছিল। এ বছর আবার উৎসবের আমেজ ফিরে এসেছে—এজন্য সবার আগ্রহ অনেক বেশি। পরিবারসহ শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া তারা আনন্দিত।
নগরে বর্ষবরণ উৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকাল থেকে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে ডিসি হিল ও সিআরবি এলাকায় যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, বাংলা নববর্ষ বাঙালির অন্যতম সার্বজনীন উৎসব। এই উৎসবের সময় নগরবাসী যেন নির্বিঘ্নে ও নিরাপত্তার মধ্যে আনন্দ উপভোগ করতে পারেন, সে জন্য কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।





