মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, দীর্ঘ ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী
ইরান যুদ্ধ এখন সমাপ্তির একদম দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। ফক্স নিউজের সাংবাদিক মারিয়া
বারটিরোমোকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে জানান,
এই সংঘাত প্রায় শেষের পথে এবং আগামী দুই দিনের মধ্যে বড় কোনো নাটকীয় পরিবর্তন ঘটার
প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন মধ্যপ্রাচ্যের
অস্থির পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরান পুনরায়
আলোচনার টেবিলে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফক্স বিজনেস এবং নিউ ইয়র্ক পোস্টে প্রকাশিত
এই সাক্ষাৎকারগুলো বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
ট্রাম্পের মতে, আগামী ৪৮ ঘণ্টা এই যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
হতে পারে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইসলামাবাদের আলোচনার টেবিলে পুনরায় ফিরে যাওয়ার
বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে অত্যন্ত আগ্রহী। যদিও এর আগে পাকিস্তানের মাটিতে
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এবং ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ
বাকের গালিবাফের মধ্যে ২১ ঘণ্টা দীর্ঘ ম্যারাথন বৈঠক কোনো সুনির্দিষ্ট চুক্তি ছাড়াই
শেষ হয়েছিল, তবে আন্তর্জাতিক মহল হাল ছাড়ছে না। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস
মনে করছেন, আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার এক উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। রয়টার্সের
প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপসাগরীয় কিছু দেশ এবং পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে
ওয়াশিংটন ও তেহরানের প্রতিনিধি দল চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ আবারও পাকিস্তানে ফিরে
আসতে পারে।
কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে ইরানের ওপর চরম সামরিক চাপও অব্যাহত রেখেছে
ওয়াশিংটন। মার্কিন সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ
প্রণালিতে দ্বিতীয় দিনের মতো মার্কিন নৌ-অবরোধ বলবৎ থাকায় সমুদ্রপথে ইরানের যাবতীয়
অর্থনৈতিক আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রম বর্তমানে ‘পুরোপুরি বন্ধ’ হয়ে গেছে। অবরোধের
প্রথম ২৪ ঘণ্টায় ইরানের কোনো বন্দর বা উপকূলীয় এলাকা দিয়ে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ
চলাচল করতে পারেনি বলে পেন্টাগন দাবি করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে, এই চরম
অর্থনৈতিক অবরোধ ও সামরিক অবস্থানের কারণেই ইরান এখন দ্রুত একটি কূটনৈতিক সমাধানের
পথে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছে।
তবে শান্তি আলোচনার এই ইতিবাচক আবহের মধ্যেও কিছু গভীর জটিলতা এখনো বিদ্যমান। বিশেষ
করে আগামী ২১ এপ্রিল বর্তমান দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে
যাচ্ছে। তার আগে ইসরায়েল যেভাবে লেবাননের অভ্যন্তরে ক্রমাগত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে,
তাকে অনেকে যুদ্ধবিরতির শর্তের চরম লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু
হওয়া এই সংঘাত ইতিমধ্যে ৪০ দিন পার করেছে এবং প্রভূত প্রাণহানি ও সম্পদের
ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়েছে। তেহরান এখনো আলোচনার টেবিলে ফেরা নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো
প্রতিক্রিয়া না জানালেও, ট্রাম্পের জোরালো পূর্বাভাস ইঙ্গিত দিচ্ছে যে পর্দার আড়ালে
বড় কোনো সমঝোতার প্রস্তুতি চলছে। এখন পুরো বিশ্বের নজর পাকিস্তানের দিকে, যেখানে
আগামী কয়েক দিনেই নির্ধারিত হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের পরবর্তী সামরিক ও ভূ-রাজনৈতিক
ভাগ্য।





