বৃহস্পতিবার, ১৬ই এপ্রিল, ২০২৬, ৩রা বৈশাখ, ১৪৩৩

পোশাক শিল্পের টেকসই উন্নয়ন ও নীতিগত চ্যালেঞ্জ দূর করতে বিজিএমইএ-বাণিজ্যমন্ত্রীর বৈঠক

বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে পোশাক শিল্পের নেতৃবৃন্দ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। এই সভাটি বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানসহ প্রতিনিধিদল অংশ নেন। মূল focus ছিল দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক চাপ কমানো এবং তার টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

বিজিএমইএ সভাপতি উল্লেখ করেন যে, বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও উৎপাদন খরচ বাড়ার কারণে এই শিল্পের স্থিতিশীলতা রক্ষা জরুরি। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিতিশীলতা মোকাবিলার জন্য ব্যবসায়িক সুবিধাজনক নীতি এবং পরিবেশের প্রয়োজন রয়েছে।

বৈঠকে বিজিএমইএ আরও জানায় যে, আরএমজি সাসটেইনেবল কাউন্সিলের (আরএসসি) স্থাপনার মূল লক্ষ্য হলো ভবন, অগ্নি ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবে, ব্যবসায়ীদের মতামত অনুযায়ী, এসব বিষয়ের সঙ্গে শ্রমিক ও ট্রেড ইউনিয়নের বিষয়গুলো জড়িত নয় এবং এগুলোর জন্য আলাদাভাবে পরিচালনা হওয়া উচিত বলে তারা মত প্রকাশ করেন। তাঁরা দাবি করেন, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে মালিকপক্ষের মতামত ও দেশের আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করতে হবে।

শিল্পের দীর্ঘমেয়াদী অগ্রগতি বজায় রাখতে প্রতিনিধি দল আমদানি ও বন্ড নীতিমালা সংস্কারের পাশাপাশি, বিনাশুল্কে কাঁচামাল আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করার আহবান জানিয়েছেন। তারা আরও দাবি করেন যে, রপ্তানি খাতের নগদ সহায়তার ওপর ১০ শতাংশ কর প্রত্যাহার ও ভারতের সঙ্গে সড়কপথে ব্যবসার প্রতিবন্ধকতাগুলো দ্রুত দূর করতে হবে। এছাড়াও, তারা ভবিষ্যত পরিকল্পনা হিসেবে আমদানি নীতি ২০২৪-২৭ এর সংশোধন ও সিআইপি মর্যাদা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদান এর প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বক্তাদের প্রস্তাবগুলো গুরুত্ব সহকারে শোনেন এবং দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী এই শিল্পের সক্ষমতা বজায় রাখতে সব ধরনের সরকারি সহযোগিতা এবং নীতি সহায়তার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নের স্বার্থে এই শিল্পের টেকসই উন্নয়ন ও প্রাণবন্ত রাখার জন্য সরকার সব সময় পাশে থাকবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন