বৃহস্পতিবার, ১৬ই এপ্রিল, ২০২৬, ৩রা বৈশাখ, ১৪৩৩

বিশ্ববাজারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাস

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাসের ধারা বর্তমানে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো অব্যাহত রয়েছে। বুধবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে কমে দাঁড়িয়েছে ৯৪.২৭ ডলারে এবং ডব্লিউটিআই ক্রুডের দর নেমে এসেছে ৯০.২৪ ডলারে। এই মূল্য পতনের মূল কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পুনরায় শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি সৃষ্টি করেছে এবং মূল্য হ্রাসে সহায়ক হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, কূটনৈতিক এই উদ্যোগ সফল হলে হরমুজ প্রণালীতে আটকা থাকা তেলের সরবরাহ আবার স্বাভাবিক হয়ে বাজারে ফিরে আসবে এবং সরবরাহের কমতি দূর হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে আগামী দুই দিনের মধ্যে পাকিস্তানে নতুন আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। গত সপ্তাহান্তে অনুষ্ঠিত সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর, ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোর উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছিল। তবে এখন এই আলোচনা ফের শুরু হলে বাজারে আশার বার্তা ছড়িয়ে পড়ছে। বর্তমানে যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক তেল পরিবহণের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, সংকটের আগে এই পথে দৈনিক ১৩০টি জাহাজ চলাচল করত, এখন তা ব্যাপক হারে কমে গেছে।

এছাড়া, সমুদ্রপথে ইরানী তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞার সাময়িক শিথিলতার মেয়াদ এই সপ্তাহে শেষ হতে যাচ্ছে, এবং মার্কিন প্রশাসন আরও বাড়ানোর পরিবর্তে তা বন্ধের ইঙ্গিত দিয়েছে। একইভাবে, রাশিয়ার তেলের ওপর দেওয়া সুবিধাও গত সপ্তাহে শেষ হয়েছে, যা বাজারে সরবরাহের স্বাভাবিকতা নিয়ে সংশয় বাড়াচ্ছে। জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকদের মতে, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও যাতায়াত বিধিনিষেধের কারণে বর্তমান পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত। তারা মনে করছেন, বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে দেরি হচ্ছে এবং সরবরাহের বিঘ্নের ঝুঁকি বেশি।

এদিকে, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন (ইআইএ) খুব শিগগিরই তেলের আনুপাতিক মজুত সংক্রান্ত নতুন তথ্য প্রকাশ করবে। আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, গত তিন সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রে তেল মজুতের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষত, গত সোমবার, বাজারে সরবরাহের সংকটের আশঙ্কায় ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য প্রতি ব্যারেলে ১০২.১৬ ডলার এবং ডব্লিউটিআইতে ১০৪.৮২ ডলার იყო। এই অস্থির পরিস্থিতিতে, বাজার বিশ্লেষকেরা মনে করেন যে, জ্বালানি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন