বৃহস্পতিবার, ১৬ই এপ্রিল, ২০২৬, ৩রা বৈশাখ, ১৪৩৩

৬ মাস পার হলেও ভেঙে যাওয়া চার ব্রিজের মেরামত এখনো হয়নি

গত বছর প্রবল বর্ষণে জীবননগর উপজেলার মধ্যে থাকা চারটি মূল ব্রিজ ভেঙে পড়ে। এই ব্রিজগুলোর ভেঙে যাওয়ার ছয় মাস অতিবাহিত হলেও এখনো পর্যন্ত সরকারীভাবে কোন সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়নি। এলাকাবাসীর ছোটখাটো উদ্যোগে কিছুটা মেরামত করার চেষ্টা হলেও যানবাহন বা ভারি ট্রাকগুলো এই ব্রিজের ওপর দিয়ে পারাপার করতে পারেনি। ফলে সেখানে চলাচল এখনো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে এবং স্থানীয় ২৫ থেকে ৩০টি গ্রামে মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

প্রায় এক বছর আগে, সেপ্টেম্বর মাসে ভারি বর্ষণে সিংনগর বাওড়ের বাঁধ ভেঙে নদীর প্রবল স্রোত সেখানে থাকা চারটি ব্রিজকে ধ্বংস করে দেয়। এর মধ্যে জীবননগরের সিংনগর, উথলী গ্রামের সম্প্রসারিত ব্রিজ, সন্তোষপুর ও মনোহরপুর গ্রামের ব্রিজগুলো পড়ে যায়। মনোহরপুরে থাকা ব্রিজটি পুরোপুরি ভেঙে যাওয়ায় সেখানে চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বাকি তিনটির কিছুটা অংশ স্থানীয়দের সহায়তায় হাস্যকরভাবে মেরামত করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে স্থানীয়রা নিয়মিত কার্যক্রম শুরু করার জন্য করণীয় নির্ধারণে প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও এখনো কোন উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

সিংনগর গ্রামের আহাদ আলী বলেন, ছয় মাসের বেশি সময় ধরে ওই ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সাধারণ মানুষ, কৃষকদের কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া ও রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া খুবই কষ্টের কারণে তারা উদ্বিগ্ন। তারা মানববন্ধন ও নানাভাবে বারবার সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

সন্তোষপুর গ্রামের ইউপি সদস্য আব্দুস ছাত্তার বলেন, অনেকের উপস্থিতিতে কয়েকবার পরিদর্শন হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এক সময় উথলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জহুরুল হক ঝন্টু নিজ উদ্যোগে কিছু ইট ও খোয়ার দিয়ে একটুকু সংস্কার করতে পারলেও সেটার ফলে ব্রিজের ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে।

মনোহরপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, তাঁর গ্রামের মানুষ এই ব্রিজ ব্যবহার করে কৃষি ফসল ঘরে তোলেন ও অন্যান্য গ্রামে যাতায়াত করেন। আবার ভেঙে পড়ার কারণে এখনো তারা পানের মধ্যে দিয়ে হাঁটাহাঁটি করে গাঁয়ের মাঠে যেতে বাধ্য হন।

স্থানীয়দের মতে, ব্রিজ ভেঙে যাওয়ায় অনেককেই ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার পথ ঘুরে অন্য রাস্তা দিয়ে যেতে হয়। বর্ষাকালে পানির স্রোতে বাকি অংশগুলো পুরোপুরি ধ্বংস হলে ওই গ্রামগুলো গৃহবন্দি হয়ে পড়বে। পরিস্থিতি বিবেচনায় এলাকাবাসী এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্রিজের মেরামত দাবি জানিয়েছেন।

পোস্টটি শেয়ার করুন