কয়েক দশক পর এক ঐতিহাসিক সংলাপে বসতে যাচ্ছে ইসরায়েল ও লেবানন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট
ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, বহু বছর পর এ দুই দেশের নেতাদের মধ্যে সরাসরি আলোচনার
সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে প্রায় তিন দশকের
বেশি সময় ধরে কোনো যোগাযোগ হয়নি, তবে শিগগিরই তা হতে পারে। এ খবর দিয়েছে বার্তা
সংস্থা রয়টার্স।
এদিকে পাকিস্তান জানিয়েছে, লেবাননে শান্তি প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ
তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনের কেন্দ্রে রয়েছে। তাদের মতে,
লেবাননের পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হলে বৃহত্তর আঞ্চলিক শান্তি আলোচনা এগোনো কঠিন
হবে।
লেবাননের বর্তমান সংঘাত শুরু হয় ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরাইলের ওপর হামলা
চালানোর পর। এর জবাবে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান শুরু করে। সীমান্তবর্তী
শহর বিনত জবেইল এখন সংঘর্ষের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তার দেশের বাহিনী ওই এলাকায়
অগ্রসর হচ্ছে এবং তারা হিজবুল্লাহকে দুর্বল করতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে,
হিজবুল্লাহও ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় রকেট হামলা অব্যাহত রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা সরাসরি লেবাননে যুদ্ধবিরতির আহ্বান না জানালেও সংঘাতের
অবসানকে স্বাগত জানাবে। অন্যদিকে ইরান বলছে, যে কোনো শান্তি চুক্তিতে লেবাননকে
অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।
বুধবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানান, তিনি দক্ষিণ লেবাননে
অভিযান সম্প্রসারণের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা এবং
উত্তর সীমান্তে ‘স্থিতিশীল শান্তি’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সামরিক অভিযানের পাশাপাশি
লেবানন সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল।
যদিও লেবানন সরকার এ সংঘাতের পক্ষ নয়, তারা যুদ্ধবিরতি এবং দক্ষিণ লেবানন থেকে
ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার চায়।
লেবাননের রাজধানী বৈরুত থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক ম্যালকম ওয়েব জানান, শুরুতে
ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের দক্ষিণ সীমান্ত থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার উত্তরে লিতানি
নদী পর্যন্ত পুরো এলাকা দখলের লক্ষ্য নিয়ে অভিযান শুরু করেছিল।
তিনি বলেন, ‘কিন্তু ইসরায়েল তা করতে পারেনি। গত ছয় সপ্তাহ ধরে তারা হিজবুল্লাহর
প্রতিরোধের মুখে পড়েছে। এরপর তারা ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার বাফার জোনের কথা বলছে।
সাম্প্রতিক দিনে সীমান্তসংলগ্ন শহর ও গ্রামগুলোতেই বেশি লড়াই হয়েছে।’
ওয়েব আরও বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হলেও ইসরায়েলের হামলা,
বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ এবং বিমান হামলার কারণে বাস্তুচ্যুত ১২ লাখ
মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—তারা কবে, বা আদৌ বাড়ি ফিরতে পারবে কি
না।





