নাটোরের বড়াইগ্রামের তরুণ প্রকৌশলী কাসমিম আহমেদ ফারহান অত্যন্ত সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব একটি ইলেকট্রিক গাড়ি তৈরি করেছেন। এই গাড়িটি মাত্র ৭০ টাকার বিদ্যুতের খরচে ৬৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে সক্ষম, যা বর্তমান জ্বালানি সংকটের মাঝে একটি বিশেষ সফলতা। এর আধুনিক গিয়ারের ব্যবস্থা ও উচ্চ গতি এর কার্যকারিতা আরও বাড়িয়ে তোলে। গাড়িটির সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৭০ কিলোমিটার। এটি ৬ জন যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে পারে, যা পরিবারের জন্য একদম উপযুক্ত।
তরুণ এই প্রকৌশলী মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক শেষ করার পর নিজ উদ্যোগে এই ইলেকট্রিক ক্রসওভারে কাজ শুরু করেন। তিনি বলেন, দেশের আধুনিক ও সাশ্রয়ী গাড়ির পক্ষে এটি একটি বড় স্বপ্ন। এই গাড়ি তৈরিতে ব্যবহৃত প্রযুক্তি দেশি ও আধুনিক, যেমন ডুয়েল পোর্ট ফোর স্পিড গিয়ার বক্স, যা ম্যানুয়াল ট্রান্সমিশন ও ডিরেক্ট ড্রাইভ দুয়েরই সুবিধা দেয়। এই গাড়িটি সাধারণ ই-কারের তুলনায় আরও উন্নত ও কার্যকর।
ফারহান বিশ্বাস করেন, মাত্র ৭০ টাকার বিদ্যুৎ খরচে এই গাড়িটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবেলায়। ভবিষ্যতে তিনি এই প্রকল্পকে আরও উন্নত করার জন্য অটোমোবাইল সেক্টরে কাজ করতে চান এবং সরকারি সহায়তা চান। স্থানীয়রা বলছেন, এই ধরনের কম খরচের বৈদ্যুতিক গাড়ি যদি সরকারি উদ্যোগে বাজারে আনা যায়, তবে তা দেশের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ এক মাইলফলক হবে। বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস জানিয়েছেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তারা প্রস্তুত।
ফারহানের মতো তরুণ উদ্ভাবকদের যদি সরকারি বা বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হয়, তবে বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী পরিবহণ ব্যবস্থা দ্রুত উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যেতে পারে। এই ব্যাপারে তাদের উদ্যোগ ও সাহসকে স্বাগত জানাচ্ছে স্থানীয়রা, যা চলমান জ্বালানি সংকটের মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।





