রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের দামের মধ্যে চরম অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে। যেখানে মাছ এবং গরুর মাংসের দাম স্থিতিশীল আছে, সেখানে ডিমের বাজারে মুহূর্তের মধ্যে আগুন লাগানোর মতো অবস্থা বিরাজ করছে। গত এক সপ্তাহে ডিমের দাম ডজনপ্রতি কম করে অন্তত ২০ টাকা বেড়ে গেছে, যার ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষোভের শিকার হচ্ছে। কাওরান বাজার এবং অন্যান্য জনপ্রিয় বাজারের ওয়াচারদের পক্ষে দেখা গেছে, এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন বাজেটে বিশাল প্রভাব ফেলছে, বিশেষ করে প্রয়োজনীয় খাবার হিসাবে ডিমের মূল্য কেবলই বাড়ছে।
বাজারের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডিমের দাম সবচেয়ে বেশি অস্থির হয়ে উঠেছে। গত সপ্তাহে ডিমের দাম ছিল ১১০ থেকে ১২০ টাকা ডজন, আজ সেটি বেড়ে হয়েছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। বিশেষ করে বড় ধরনের ডিমের ডজন এখন ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আর সাধারণ ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। হঠাৎ করে এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ ক্রেতারা খুবই বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ। বাজারে আসা শিমুল হোসেন নামের এক ক্রেতা বলেন, “ডিম একটি অপরিহার্য খাদ্য, তবে এর মূল্য এত বেশি বাড়ার কারণে অনেক পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। এই অনিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতি দেখে আমি দুঃখিত আর মনে হয়, এটা যদি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের জীবন আরও কঠিন হয়ে পড়বে।”
অপরদিকে, ব্রয়লার মুরগির দামে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। বিক্রেতাদের ভাষ্য, সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে খানিকটা কমেছে ব্রয়লার মুরগির দাম। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু সোনালী মুরগির দাম অপরিবর্তিত থাকছে; মান ভেদে এই জাতের মুরগির দাম ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায় স্থিতিশীল। অন্যদিকে, গরুর মাংসের বাজার এখনও উচ্চমূল্যেই দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা দরে এবং বাজারের তথ্যমতে, ঈদের আগ পর্যন্ত এই দাম কমার কোনও দৃশ্যমান সম্ভাবনা নেই।
মাছের বাজারে কিছুটা স্থিরতা দেখা গেছে। বিক্রেতাদের মতে, সরবরাহ যথেষ্ট থাকায় বেশিরভাগ মাছের দাম অপরিবর্তিত। তবে ইলিশের দামে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এখন মাঝারি আকারের ইলিশের কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে ১০০০ টাকা। অন্যান্য মাছের মধ্যে রুই ৩২০ টাকা, তেলাপিয়া ও পাঙাস ২০০ টাকা এবং সিলভার কার্পের দাম আবার ১৬০ টাকা কেজি। কৈ মাছ ১৪০ টাকা এবং পাড়ে পাড়ে পাবদার দাম ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি। মাছ বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ বর্তমানে এমন থাকলে ইলিশের দাম আরও কিছুটা তবে কমত হতে পারে।
সার্বিকভাবে দেখা যায়, বিভিন্ন পণ্যের দাম কমে গেলে অন্য পণ্যের দামে ফের ওঠানামা হওয়া সাধারণ ভোক্তাদের জন্য একটি জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। ব্রয়লার মুরগির দাম কমলেও, ডিমের মতো অত্যাবশ্যক প্রোটিনের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জন্য জীবনযাত্রা আরও কঠিন করে তুলছে। সচেতন ক্রেতারা মনে করছেন, বাজার তদারকি ও নিয়ন্ত্রণে শক্তিশালী ব্যবস্থা না থাকলে এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হবে। দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে সীমিত আয়ের মানুষের খাদ্যাভ্যাসে আঘাত এড়াতে দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।





