স্প্যানিশ ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আসর কোপা দেল রের ফাইনালে এক রুদ্ধশ্বাস
লড়াইয়ের সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব। সেভিয়ার মাঠে আয়োজিত এই মেগা ফাইনালে শক্তিশালী
অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদকে হারিয়ে চতুর্থবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে
রিয়াল সোসিয়েদাদ। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা ২-২ গোলে সমতায় শেষ হওয়ার পর
ভাগ্যনির্ধারণী পেনাল্টি শুটআউটে জয় নিশ্চিত করে সান সেবাস্তিয়ানের দলটি। এই জয়ের
মাধ্যমে ২০২০ সালের পর আবারও কাপ শিরোপা ঘরে তুলল তারা, অন্যদিকে ২০১৩ সালের পর
প্রথম ট্রফি জয়ের স্বপ্নভঙ্গ হলো ডিয়েগো সিমিওনের শিষ্যদের।
ম্যাচের শুরুতেই ফুটবল ইতিহাসের এক বিরল মুহূর্তের জন্ম দেয় রিয়াল সোসিয়েদাদ।
রেফারি বাঁশি বাজানোর মাত্র ১৪ সেকেন্ডের মাথায় আন্ডার বারেনেটজিয়া গোল করে
সোসিয়েদাদকে লিড এনে দেন, যা কোপা দেল রের ফাইনালের ইতিহাসে দ্রুততম গোলের রেকর্ড
হিসেবে নথিবদ্ধ হয়েছে। শুরুতে পিছিয়ে পড়ে কিছুটা দমে গেলেও ১৮তম মিনিটে আদেমোলা
লুকমানের গোলে সমতায় ফেরে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ। তবে প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তে
পেনাল্টি থেকে মিকেল ওয়ারাজাবাল গোল করলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায়
সোসিয়েদাদ। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়িয়েও যখন অ্যাতলেটিকো গোলের দেখা পাচ্ছিল
না, ঠিক তখনই নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হওয়ার সাত মিনিট আগে আর্জেন্টাইন তারকা
জুলিয়ান আলভারেজ গোল করে ম্যাচে ২-২ সমতা ফিরিয়ে আনেন।
অতিরিক্ত সময়ে কোনো দলই গোল করতে না পারায় চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণের জন্য টাইব্রেকারের
সাহায্য নিতে হয়। পেনাল্টি শুটআউটে নায়ক হয়ে আবির্ভূত হন সোসিয়েদাদ গোলরক্ষক উনাই
মারেরো। তিনি অত্যন্ত দক্ষতায় অ্যাতলেটিকোর প্রধান দুই ভরসা আলেক্সান্দার সরলথ এবং
জুলিয়ান আলভারেজের শট রুখে দিয়ে প্রতিপক্ষকে স্তব্ধ করে দেন। শেষ পর্যন্ত পাবলো
মারিন এক দুর্দান্ত উঁচু শটে লক্ষ্যভেদ করলে ৪-৩ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয়
সোসিয়েদাদের। এই বিজয় গ্যালারিতে থাকা সোসিয়েদাদ সমর্থকদের মাঝে এক অভাবনীয়
উন্মাদনার সৃষ্টি করে।
এই শিরোপা জয়ের মাধ্যমে ফুটবল বিশ্বে এক নতুন রেকর্ড গড়লেন সোসিয়েদাদ কোচ
পেল্লেগ্রিনো মাতারাজ্জো। নিউজার্সিতে জন্ম নেওয়া এই কোচ প্রথম আমেরিকান হিসেবে
ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের কোনো বড় প্রতিযোগিতায় ট্রফি জয়ের অনন্য নজির স্থাপন
করলেন। গত ডিসেম্বরে যখন তিনি দায়িত্ব নেন, তখন দলটি লা লিগার পয়েন্ট টেবিলে অবনমন
অঞ্চলের একদম কাছাকাছি ছিল। মাত্র চার মাসের ব্যবধানে মাতারাজ্জো তাঁর জাদুকরী
ছোঁয়ায় দলটিকে কেবল পয়েন্ট টেবিলের মাঝামাঝি স্থানেই নিয়ে আসেননি, বরং শিরোপার
স্বাদও পাইয়ে দিয়েছেন।
অন্যদিকে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে উঠে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থাকা
অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের জন্য এই হার ছিল এক বিশাল ধাক্কা। ২০১৩ সালের পর থেকে কোপা
দেল রে ট্রফি অধরা থাকা এই ক্লাবের সামনে এটি ছিল ১১তম শিরোপা জয়ের সুবর্ণ সুযোগ,
যা তারা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হলো। সব মিলিয়ে সেভিয়ার এই রাতটি ছিল মাতারাজ্জোর
রণকৌশল আর সোসিয়েদাদের হার না মানা মানসিকতার এক মহাকাব্যিক জয়গাথা। এই ট্রফি জয়
সোসিয়েদাদকে স্প্যানিশ ফুটবলে নতুন করে শক্তিশালী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করল।





