সোমবার, ২০শে এপ্রিল, ২০২৬, ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩

সাত সন্তানসহ আট শিশুকে গুলি করে হত্যা করেছেন পাষণ্ড বাবা

যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের শ্রেভপোর্টে এক হৃদয়বিদীর্ণ ও দেখবার মতো নিষ্ঠুরতার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে এক পাষণ্ড পিতা তার নিজের সাত সন্তানসহ মোট আট শিশুকে গুলি করে হত্যা করেছেন। স্থানীয় সময় রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে তিনটি আলাদা বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডটি সম্পন্ন করেন ঘাতক বাবা। এটি ২০২৪ সালের জানুয়ারির পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে বড় এবং ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ফলে পুরো এলাকা গভীর শোক প্রকাশ করছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত শিশুরা সাতজন ছেলে এবং পাঁচজন মেয়ে, যারা বয়সে খুবই ছোট, মাত্র ৩ থেকে ১১ বছর। পুলিশি প্রতিবেদনে জানা গেছে, নিহত শিশুদের মধ্যে সাতজনই তার নিজের সন্তান এবং অন্য একজন দুষ্প্রাপ্য নিকটাত্মীয়। নিহত শিশুদের নাম হলো— জায়লা এলকিন্স (৩), শায়লা এলকিন্স (৫), কায়লা পিউ (৬), লায়লা পিউ (৭), মারকেডন পিউ (১০), সারিয়া স্নো (১১), খেডারিওন স্নো (৬) এবং ব্রেলন স্নো (৫)। এই শিশুগুলোর জীবন মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দুর্বল light নিভে গেছে।

স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা কর্পোরাল ক্রিস বোর্ডেলোন জানিয়েছেন, এর সঙ্গে অভিযুক্ত শামার এলকিন্সের বয়স ৩১ বছর। প্রথমে তিনি তার স্ত্রীকে লক্ষ্য করে গুলি চালান, ফলে তিনি গুরুতর আহত হন। স্ত্রীকে গুলি করার পর তিনি থেমে থাকেননি; বরং আরও দুটি বাড়িতে গিয়ে নিজের সন্তানদের ওপর গুলিবর্ষণ করেন। এই ঘটনায় শিশুরা, তাঁদের মা, এবং ঘাতকের এক নারী আত্মীয়সহ সবাই গুরুতর জখম হন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশুর মায়ের জীবন এখনও ঝুঁকির মধ্যে। তবে ছোট এক কিশোর, বয়স ১৩, ওই হামলার সময় বাঁচে। সে ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে তাঁর শরীরের বেশ কিছু হাড় ভেঙে যায়, তবে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

শামার এলকিন্সের অতীত ইতিহাস উদ্ধার করে আরও কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি এর আগে সহিংস অপরাধে জড়িয়ে পড়েছেন এবং ২০১৯ সালে একটি স্কুলের সামনে একজনের গাড়ির ওপর পাঁচটি গুলি চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন। এর পাশাপাশি, তিনি টানা সাত বছর লুইজিয়ানা আর্মি ন্যাশনাল গার্ডে কর্মরত ছিলেন এবং ২০২০ সালের আগস্টে সেখান থেকে অবসর নেন। তবে সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দীর্ঘ কর্মজীবনে তাঁকে কোনও সংঘাতপূর্ণ এলাকায় যুদ্ধের জন্য মোতায়েন করা হয়নি।

এই ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলাকালে শামার এলকিন্সকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয় এবং এতে তিনি গুরুতর আহত হন। বর্তমানে তিনি পুলিশি হেফাজতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ উদঘাটনে কঠোর তদন্ত শুরু করেছে। দেশের ভিতরে ক্রমে বেড়ে চলা বন্দুক সহিংসতা ও পারিবারিক কোন্দলের এই নির্মম প্রকাশনার কারণে নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ এই মনুষ্যত্বহীন ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছেন।

পোস্টটি শেয়ার করুন