মঙ্গলবার, ২১শে এপ্রিল, ২০২৬, ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি দেশের স্বার্থের পরিপন্থি: আনু মুহাম্মদ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তি দেশের স্বার্থের পরিপন্থি। তিনি বলেন, এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদিভাবে লাভবান থাকছে না; বরং এর ফলে দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং দেশের স্বাধীন নীতিনির্ধারণের উপর সরাসরি হস্তক্ষেপের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীর শাহবাগে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির উদ্যোগে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবিতে এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। এই সমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

অধিকারকর্মী মাহতাবউদ্দিন আহমেদ অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় এবং গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন কমিটির অন্য নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি ময়মনসিংহ জেলার প্রতিনিধি আবুল কালাম আল আজাদ, শিক্ষক ও গবেষক মাহা মির্জা ও ডা. হারুণ-অর-রশীদ।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, এই ধরনের বাণিজ্য চুক্তির ফলে আমদানির জন্য চাপ তৈরি হবে বহু অপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ দেশীয় প্রয়োজনের বাইরে অন্যান্য পণ্য। এর ফলে দেশে অযৌক্তিক ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, বাজার ব্যবস্থা বিকৃত হবে এবং দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই চুক্তির শর্তের কারণে বাংলাদেশের স্বাধীন বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সংকুচিত হয়ে যাবে। কোন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য করবো, কোথ থেকে প্রতিরক্ষাসামগ্রী কিনবো—এসব সিদ্ধান্ত এখন আরও বেশি পরিমাণে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ও নিদের্শনার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে।

সমাবেশে ডা. হারুন-অর-রশীদ উল্লেখ করেন, এই চুক্তি দেশের ওষুধ শিল্পের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করতে পারে। বর্তমানে দেশেই জেনেরিক ওষুধ উৎপাদনের সক্ষমতা মূলত নমনীয় পেটেন্ট নীতির কারণে সম্ভব হয়েছে, কিন্তু এই চুক্তির মাধ্যমে কিছু মেধাস্বত্ব সংক্রান্ত শর্ত আরোপের আশঙ্কা রয়েছে, যা দেশের কোম্পানিগুলোর জন্য জেনেরিক ওষুধ উৎপাদন কঠিন করে তুলবে।

গবেষক মাহা মির্জা বলেন, এই চুক্তি দেশের স্থানীয় শিল্পকে ধসে দেবে, বিশেষ করে গরিব মানুষের জীবিকা বিপন্ন হবে। জনস্বার্থবিরোধী এই চুক্তি দীর্ঘমেয়াদি ক্ষমতা টেকা সহজ করবে না। এমন চুক্তি ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের পাশাপাশি শ্রমজীবী মানুষের ওপর সরাসরি আঘাত ডেবে। বিরোধী দলকেও এই বাস্তবতা বুঝতে হবে। মার্কিন স্বার্থে কাজ করে জনগণের স্বার্থ রক্ষা সম্ভব নয়।

পোস্টটি শেয়ার করুন