বুধবার, ২২শে এপ্রিল, ২০২৬, ৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি দেশের স্বার্থের পরিপন্থি: আনু মুহাম্মদ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তি দীর্ঘমেয়াদে দেশের জন্য ক্ষতিকর হবে। তিনি মনে করেন, এই চুক্তি দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে এবং এর ফলে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়া দেশগুলোও লাভজনক ও প্রয়োজনীয় সম্পর্ক স্থাপন করতে পারবে না। এই চুক্তি শুধু একটি বাণিজ্যিক বিষয় নয়, বরং এটি দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব এবং স্বাধীন নীতিমালা নির্ধারণের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপের একটি কার্যকর প্রক্রিয়া।

তিনি এই বক্তব্য প্রকাশ করেন শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীর শাহবাগে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির আয়োজন gjort এক সমাবেশে, যেখানে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবি জানানো হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, এর সঞ্চালনায় ছিলেন অধিকারকর্মী মাহতাবউদ্দিন আহমেদ। বক্তব্য রাখেন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির ময়মনসিংহ জেলার প্রতিনিধি আবুল কালাম আল আজাদ, শিক্ষক ও গবেষক মাহা মির্জা এবং ডা. হারুন-অর-রশীদ।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, এই ধরনের বাণিজ্যচুক্তির কারণে আমাদের উপর বেশ কিছু অপ্রয়োজনীয় ও দরকারি না এমন পণ্য আমদানির চাপ সৃষ্টি হবে। এমনকি, যেখানে অন্য দেশের তুলনায় কম দামে পণ্য সংগ্রহ করা সম্ভব, সেগুলোও নির্দিষ্ট উৎস থেকে বেশি দামে আমদানি করতে বাধ্য করা হবে, যা দেশের অর্থনীতি অযৌক্তিক ব্যয়ের পেছনে ঠেলে দেবে এবং বাজারের স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিকৃত করে দেবে।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, এই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী বাংলাদেশের স্বাধীন বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সংকুচিত হবে। দেশের সাথে বাণিজ্য করতে, প্রতিরক্ষাসামগ্রী কেনা, এমনকি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোও এখন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ও নির্দেশনার অধীনে চলে যাবে।

বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, এই বাণিজ্য চুক্তি বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করবে। বর্তমানে দেশের জেনেরিক ওষুধ উৎপাদনের সক্ষমতা মূলত নমনীয় পেটেন্ট নীতির কারণে সম্ভব হয়েছে। কিন্তু এই চুক্তির মাধ্যমে কিছু মেধাস্বত্বের শর্ত আরোপের আশঙ্কা রয়েছে, যার ফলে দেশীয় কোম্পানিগুলোর জন্য জেনেরিক ওষুধ উৎপাদন আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

গবেষক মাহা মির্জা বলেন, এই চুক্তি স্থানীয় শিল্প, বিশেষ করে পোল্ট্রি শিল্পকে ধ্বংস করে দেবে। গরিব মানুষের রুটি-রুজি বিপন্ন হবে। জনস্বার্থের বিরোধী এই ধরনের চুক্তি করে কোনো সরকার দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না। এই চুক্তি ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের পাশাপাশি শ্রমজীবী মানুষের জীবনেও সরাসরি আঘাত হানবে। বিরোধী দলগুলোকেও এই বিষয়গুলো বুঝতে হবে। মার্কিন তাবেদারি করে জনগণের স্বার্থ রক্ষা সম্ভব নয়।

পোস্টটি শেয়ার করুন