বৃহস্পতিবার, ২৩শে এপ্রিল, ২০২৬, ১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন অভিনেত্রী দিব্যাঙ্কা সিরোহী

ভারতের উত্তরপ্রদেশের বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ অভিনেত্রী দিব্যাঙ্কা সিরোহী অকালে

না ফেরার দেশে চলে গেছেন। গত মঙ্গলবার রাতে উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে নিজ বাসভবনে

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে এই উদীয়মান অভিনেত্রীর বয়স হয়েছিল

মাত্র ৩০ বছর। তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণে আঞ্চলিক চলচ্চিত্র ও সংগীত অঙ্গনে গভীর

শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে হঠাৎ মাথা ঘোরা শুরু হয়

দিব্যাঙ্কার। এক পর্যায়ে তিনি ভারসাম্য হারিয়ে মেঝেতে পড়ে যান এবং মাথায় গুরুতর

আঘাত পান। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত

চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, হৃদরোগে

আক্রান্ত হওয়ার কারণেই তিনি পড়ে গিয়েছিলেন এবং পরবর্তী শারীরিক জটিলতায় তাঁর মৃত্যু

হয়।

আজ বুধবার সকালে গাজিয়াবাদে দিব্যাঙ্কার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। শেষ

বিদায়ে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন প্রযোজক জিতু, শিল্পী বিকাশসহ হরিয়ানভি

ও উত্তরপ্রদেশের বিনোদন জগতের অনেক তারকা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর সহকর্মী ও

ভক্তরা এই মেধাবী অভিনেত্রীর অকাল মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে

মেধাবী দিব্যাঙ্কা চৌধুরী চরণ সিংহ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং সিকিমের একটি

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন।

আঞ্চলিক বিনোদন অঙ্গনে দিব্যাঙ্কা দ্রুত নিজের অবস্থান তৈরি করে নিয়েছিলেন। বিশেষ

করে জনপ্রিয় গায়ক মাসুম শর্মার সঙ্গে বেশ কিছু মিউজিক ভিডিওতে কাজ করে তিনি

দর্শকদের নজরে আসেন। অভিনয়ের পাশাপাশি নাচেও পারদর্শী ছিলেন তিনি। সামাজিক

যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর প্রকাশিত ভিডিওগুলো প্রায়ই ভাইরাল হতো, যা তাঁকে তরুণ

প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছিল। নিজের বিশেষ অঙ্গভঙ্গি ও অভিব্যক্তির জন্য

তিনি অল্প সময়েই ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছিলেন।

শৈশব থেকেই অভিনয় ও নাচের প্রতি গভীর অনুরাগ ছিল দিব্যাঙ্কা সিরোহীর। এক

সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, সৃজনশীল কাজের মাধ্যমেই তিনি মানুষের মনে জায়গা করে

নিতে চান। নিজের পরিশ্রম ও প্রতিভা দিয়ে যখন তিনি ক্যারিয়ারের সাফল্যের দিকে এগিয়ে

যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই এই আকস্মিক মৃত্যু তাঁর সব স্বপ্নের অবসান ঘটাল। তাঁর প্রয়াণ

আঞ্চলিক বিনোদন জগতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন