সোমবার, ২৭শে এপ্রিল, ২০২৬, ১৪ই বৈশাখ, ১৪৩৩

ওমান সফর শেষে পুনরায় পাকিস্তান আসছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পাকিস্তান ছাড়ার মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে আবারও দেশটিতে সফরে আসছেন ইরানের

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ইরানি সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ জানিয়েছে, ওমান সফর

শেষে আরাগচি আজ রোববার সন্ধ্যায় পুনরায় ইসলামাবাদে পৌঁছাতে পারেন। পাকিস্তান থেকে

তাঁর পরবর্তী গন্তব্য হতে যাচ্ছে রাশিয়া। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসন

এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার অংশ হিসেবে তাঁর এই ঝটিকা সফরকে

অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগে গত শুক্রবার রাতে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল নিয়ে ইসলামাবাদে এসেছিলেন

আরাগচি। শনিবার তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফসহ অন্যান্য

নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। তাঁর সেই সফরের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও

ইরানের মধ্যে পুনরায় আলোচনার একটি বড় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো

সুনির্দিষ্ট সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব না হওয়ায় তিনি ওমান সফরে চলে যান। পুনরায়

পাকিস্তানে ফেরার মাধ্যমে কূটনৈতিক আলোচনার পথ এখনও খোলা আছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া

যাচ্ছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, আরাগচি আজ ইসলামাবাদে এসে পুনরায় পাকিস্তানি

কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করবেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে

তাঁর সরাসরি বৈঠকের সম্ভাবনা এখনই দেখা যাচ্ছে না। ইরান মনে করছে যুক্তরাষ্ট্রের

দাবিগুলো মাত্রারিক্ত এবং একপাক্ষিক। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের দেওয়া

প্রস্তাবগুলোকে অগ্রহণযোগ্য বলে ঘোষণা করেছে। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে

আলোচনায় স্থবিরতা দেখা দিলেও পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজের প্রচেষ্টা

অব্যাহত রেখেছে।

গত শুক্রবার আরাগচির সঙ্গে আসা প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা ইতোমধ্যে ইরানে ফিরে

গেছেন। সেখানে তাঁরা সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে

পরামর্শ করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, আরাগচি ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পর ওই প্রতিনিধি

দলটিও পুনরায় তাঁর সঙ্গে যোগ দিতে পারে। তেহরান তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণের

জন্য এই শাটল ডিপ্লোম্যাসি বা দৌড়ঝাঁপ চালিয়ে যাচ্ছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে

পাকিস্তান।

সামগ্রিকভাবে, আব্বাস আরাগচির এই পুনরায় পাকিস্তান আগমন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে পর্দার

আড়ালে কোনো একটি শক্তিশালী সমঝোতার চেষ্টা চলছে। ওমান ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায়

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিদ্যমান বরফ গলানোর চেষ্টা করা হলেও দাবি-দাওয়ার

অনড় অবস্থানই প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাশিয়ার সফরের আগে ইসলামাবাদে আরাগচির এই

যাত্রাবিরতি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। এখন দেখার

বিষয়, দ্বিতীয় দফার এই আলোচনায় কোনো কার্যকর অগ্রগতির খবর আসে কি না।

পোস্টটি শেয়ার করুন