বুধবার, ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬, ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩

বিশ্বকাপের আগে গালের হাড় ভেঙে বিপাকে মদরিচ

বিশ্বজুড়ে ফুটবল ভক্তদের জন্য দুশ্চিন্তার খবর হয়ে এলেন লুকা মদরিচ। ২০২৬ ফুটবল

বিশ্বকাপ শুরু হতে যখন দেড় মাসেরও কম সময় বাকি, ঠিক তখনই এক ভয়াবহ চোটের কবলে

পড়েছেন ক্রোয়েশিয়ান এই মহাতারকা। ইতালিয়ান ক্লাব এসি মিলানের হয়ে খেলার সময় গালের

হাড় ভেঙে যাওয়ায় তাঁর চলতি ক্লাব মৌসুমের ইতি ঘটেছে। ক্লাবের পক্ষ থেকে এক

আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে, যা আসন্ন বিশ্বকাপে তাঁর অংশগ্রহণ

নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় ইতালিয়ান সিরি-এ লিগের হাইভোল্টেজ ম্যাচে জুভেন্টাসের বিপক্ষে।

ম্যাচ চলাকালীন বল দখলের লড়াইয়ে হেড নিতে গিয়ে জুভেন্টাসের মিডফিল্ডার ম্যানুয়েল

লোকাতেল্লির সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ হয় মদরিচের। সংঘর্ষের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে

তিনি তৎক্ষণাৎ মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। পরবর্তীতে নিবিড় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা

জানান, মদরিচের বাম দিকের গালের হাড়ে একাধিক চিড় ধরেছে এবং হাড় মারাত্মকভাবে

ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে কোনো সময় নষ্ট না করে চিকিৎসকরা মদরিচকে

অস্ত্রোপচারের টেবিলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এসি মিলানের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী,

মদরিচের গালের হাড়ের অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে সফল অস্ত্রোপচারের পরও

মাঠে ফিরতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হবে। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, এই ধরনের

গুরুতর চোট কাটিয়ে পূর্ণ ফিটনেস ফিরে পেতে অন্তত ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

আগামী ১১ জুন থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে শুরু হতে

যাচ্ছে ফুটবলের মহাযজ্ঞ। মদরিচের সুস্থ হওয়ার যে সময়সীমা জানানো হয়েছে, তা

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের খুব কাছাকাছি। চিকিৎসকরা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সময়ের

মধ্যে হাড় জোড়া লাগলেও পুরোপুরি ঝুঁকি কমাতে মদরিচকে হয়তো বিশেষ সুরক্ষা মাস্ক পরে

বিশ্বকাপের মাঠে নামতে দেখা যেতে পারে। তবে সেই স্বল্প সময়ে তিনি প্রতিযোগিতামূলক

ফুটবলের জন্য কতটা প্রস্তুত হতে পারবেন, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

ক্রোয়েশিয়া জাতীয় দলের প্রাণভোমরা মদরিচের এই চোট তাঁর দেশের ফুটবল পরিকল্পনায় বড়

ধরনের ছন্দপতন ঘটিয়েছে। ক্যারিয়ারের শেষবেলায় থাকা এই ফুটবলারের জন্য এই বিশ্বকাপ

ছিল অত্যন্ত আবেগপূর্ণ। এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা, মদরিচ তাঁর অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে

পুনরায় দ্রুততম সময়ে মাঠে ফিরতে পারেন কি না। ফুটবল বিশ্ব এখন অধীর আগ্রহে তাকিয়ে

আছে এই কিংবদন্তি মিডফিল্ডারের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার দিকে।

পোস্টটি শেয়ার করুন