সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া একটি কড়া বার্তা
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিদ্যমান উত্তেজনাকে আবারও বিশ্ব রাজনীতির
কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। সম্প্রতি এক পোস্টে ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, আর কোনো
ভদ্রতা নয়! এই বার্তার মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তেহরানের প্রতি
ওয়াশিংটনের ধৈর্য ফুরিয়ে আসছে।
ট্রাম্পের এই বার্তায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, ইরান একটি কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছাতে
ব্যর্থ হচ্ছে। তিনি ইরানকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আলোচনার সময় দ্রুত শেষ হয়ে আসছে।
এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে তিনি তেহরানকে একটি সুষ্ঠু ও যুক্তিসঙ্গত চুক্তির
প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তবে সেটি প্রত্যাখ্যান করলে ভয়াবহ পরিণতির হুঁশিয়ারিও
দিয়েছিলেন।
বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক
নিরাপত্তা নিয়ে গভীর মতপার্থক্য ও অস্থিরতা বিরাজ করছে।
রয়টার্স জানায়, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই আলোচনা অত্যন্ত জটিল মোড় নিয়েছে।
একদিকে ট্রাম্প দাবি করছেন যে ইরান আলোচনার জন্য নতুন পথ খুঁজছে, অন্যদিকে তেহরান
প্রকাশ্যে ওয়াশিংটনের দেওয়া অনেক বক্তব্যই নাকচ করে দিচ্ছে। এই পাল্টাপাল্টি
অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি এখন বেশ সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’র নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্ব জ্বালানি
বাজার এবং কূটনীতিকরা গভীর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ‘নো মোর মিস্টার নাইস গাই’ বার্তাটি কেবল একটি
রাজনৈতিক হুমকি নাকি ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর কোনো পদক্ষেপের পূর্বাভাস, তা আগামী কয়েক
দিনেই স্পষ্ট হবে। তবে প্রথাগত কূটনৈতিক ভাষা এড়িয়ে সরাসরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে
দেওয়া ট্রাম্পের এই কড়া বার্তা বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং
ওয়াশিংটনের ইরান কৌশলকে আবারও সবার নজরে নিয়ে এসেছে।





