শুক্রবার, ১লা মে, ২০২৬, ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩

বিদায়ি ম্যাচ দেখার আহ্বান জানিয়ে অবসরের ঘোষণা মামুনুলের

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক সফল অধিনায়ক এবং দেশের ফুটবলের এক সময়ের জনপ্রিয়

মহাতারকা মামুনুল ইসলাম সব ধরনের পেশাদার ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন।

দীর্ঘদিনের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টানার সিদ্ধান্তটি তিনি আজ সামাজিক

যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তার মাধ্যমে ফুটবলপ্রেমীদের জানান। তাঁর এই প্রস্থান দেশের

ফুটবল অঙ্গনে একটি সোনালী অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মামুনুল তাঁর বিদায়ি ম্যাচটি খেলার জন্য ১ মে শুক্রবার দিনটি বেছে নিয়েছেন।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে বর্তমানে ফর্টিস এফসির হয়ে খেলা এই অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার

বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটির বিপক্ষে ক্যারিয়ারের

শেষ ম্যাচটি খেলবেন। নিজের শেষবারের মতো মাঠে নামার এই মাহেন্দ্রক্ষণে তিনি সকল

ভক্ত ও সমর্থকদের মাঠে উপস্থিত থেকে খেলা দেখার বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন।

জাতীয় দলের জার্সিতে মামুনুলের পথচলা ছিল ঈর্ষণীয়। দেশের হয়ে মোট ৫৯টি আন্তর্জাতিক

ম্যাচে প্রতিনিধিত্ব করে তিনি ৩টি গোল করেছেন। দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের নেতৃত্বের

পাশাপাশি তিনি ছিলেন দলের মধ্যমাঠের প্রধান চালিকাশক্তি। যদিও তাঁর ইচ্ছা ছিল জাতীয়

দলের জার্সি গায়ে মাঠ থেকে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানো, তবে বিভিন্ন

বাস্তবতায় তা সম্ভব না হওয়ায় ঘরোয়া লিগের এই ম্যাচটিকেই তিনি তাঁর আনুষ্ঠানিক

বিদায়ি মঞ্চ হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

ঘরোয়া ফুটবলেও মামুনুলের অর্জন অসামান্য। তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় ক্লাব ঢাকা

আবাহনী, মোহামেডান স্পোর্টিং, শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র এবং শেখ জামালের মতো বড়

দলগুলোতে দাপটের সাথে খেলেছেন। এ ছাড়া প্রথম বাংলাদেশি ফুটবলার হিসেবে ভারতের

মর্যাদাপূর্ণ ইন্ডিয়ান সুপার লিগের (আইএসএল) ক্লাব আতলেতিকো ডি কলকাতায় নাম লিখিয়ে

তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ফুটবলের সুনাম উজ্জ্বল করেছিলেন।

৩৭ বছর বয়সী এই ফুটবলার বিদায়লগ্নে আবেগাপ্লুত হয়ে জানিয়েছেন, দীর্ঘ ফুটবল যাত্রায়

সমর্থকদের ভালোবাসা ও দোয়া ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় পাথেয়। ১ মে-র ম্যাচে ভক্তদের

উপস্থিতিকেই তিনি তাঁর খেলোয়াড়ি জীবনের সেরা প্রাপ্তি হিসেবে বিবেচনা করছেন। মাঠের

লড়াই থেকে সরে দাঁড়ালেও মামুনুল ইসলামের নাম বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে একজন অদম্য

লড়াকু অধিনায়ক ও দক্ষ মিডফিল্ডার হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন