বুধবার, ৬ই মে, ২০২৬, ২৩শে বৈশাখ, ১৪৩৩

হরমুজে যাত্রীবাহী নৌকায় মার্কিন হামলা, নিহত ৫

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর হামলায় পাঁচজন বেসামরিক

নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে,

ওয়াশিংটন ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌযান লক্ষ্য করে হামলার দাবি

করলেও প্রকৃতপক্ষে তারা যাত্রীবাহী ছোট নৌকায় আঘাত হেনেছে। সোমবার ওমানের খাসাব

উপকূল থেকে ইরানের দিকে যাওয়ার পথে দুটি ছোট নৌকায় এই হামলা চালানো হয় বলে ইরানের

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি এক সামরিক কমান্ডারের বরাতে নিশ্চিত করেছে।

তবে ইরানের এই দাবি মার্কিন সামরিক বাহিনীর বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার দাবি করেছিলেন যে,

হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে আনার লক্ষ্যে

পরিচালিত ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ অভিযানে বাধা দিতে এসেছিল আইআরজিসির ছয়টি নৌযান।

মার্কিন বাহিনীর অভিযানে সেই নৌযানগুলো ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ধ্বংস হওয়া নৌযানের এই সংখ্যা সাতটি

বলে উল্লেখ করেন, যা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

ইরানের এক অজ্ঞাতনামা সামরিক কমান্ডার জানিয়েছেন, মার্কিন দাবির পর তাঁরা একটি

নিবিড় তদন্ত পরিচালনা করেছেন। সেই তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী, আইআরজিসির কোনো সামরিক

নৌযান এই অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়নি। বরং ওমান থেকে ইরানগামী সাধারণ

যাত্রীবাহী দুটি ছোট নৌকাই মার্কিন হামলার শিকার হয়েছে। হামলায় নৌকা দুটি পুরোপুরি

ধ্বংস হয়ে যায় এবং এতে থাকা পাঁচজন আরোহী প্রাণ হারান। এই ঘটনাকে একটি ‘অপরাধ’

হিসেবে অভিহিত করে এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক মহলে জবাবদিহিতার আওতায় আনার

হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ প্রকল্পের আওতায়

হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশে আটকে থাকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে পাহারার মাধ্যমে

পারাপারে সহায়তা দিচ্ছে মার্কিন নৌবাহিনী। তবে এই অভিযানের ফলে গত ৮ এপ্রিল দুই

দেশের মধ্যে হওয়া অত্যন্ত নাজুক যুদ্ধবিরতি এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বারবার

পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ ও বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানির দাবি মধ্যপ্রাচ্যে

পুনরায় একটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই হামলার

বিষয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য

পাওয়া যায়নি।

পোস্টটি শেয়ার করুন