বৃহস্পতিবার, ৭ই মে, ২০২৬, ২৪শে বৈশাখ, ১৪৩৩

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, চরফ্যাশন প্রেসক্লাব ও রিপোর্টার্স ইউনিটির ক্ষোভ

ভোলার চরফ্যাশনে কর্মরত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে মামলা দায়েরের প্রতিবাদে

ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় সংবাদকর্মীরা। বিএনপির বহিষ্কৃত এক নেতার দায়ের করা এই

মামলাকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি

জানানো হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে চরফ্যাশন প্রেসক্লাব মিলনায়তনে প্রেসক্লাব ও রিপোর্টার্স

ইউনিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় সাংবাদিক নেতারা এই ক্ষোভ প্রকাশ

করেন। সভায় উপজেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সংবাদকর্মীরা সংহতি প্রকাশ করে যোগ

দেন।

প্রতিবাদ সভায় সাংবাদিকরা অভিযোগ করেন, চরফ্যাশন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ

সম্পাদক (বহিষ্কৃত) মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়া সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা

ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করছেন। বক্তারা বলেন, ‘ওই নেতা প্রথমে সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে

অবমাননাকর বক্তব্য দেন। পরবর্তীতে তার রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ

প্রকাশিত হলে তিনি প্রতিহিংসাবশত বরিশাল সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে এই মামলাটি

করেন।’

সভায় সাংবাদিক নেতারা বলেন, ‘সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করার জন্য এ ধরনের মামলার আশ্রয়

নেওয়া মুক্ত সাংবাদিকতার জন্য চরম হুমকি। ডিজিটাল আইনের অপপ্রয়োগ করে সত্যের পথ

রুদ্ধ করার চেষ্টা অতীতেও সফল হয়নি, বর্তমানেও হবে না।’ তারা আরও বলেন, ‘বস্তুনিষ্ঠ

সাংবাদিকতার পরিবেশ বিঘ্নিত হলে সমাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নষ্ট হবে।

সভায় বক্তারা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘সংবাদপত্রের

স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের।’

হয়রানিমূলক এই মামলা দ্রুত প্রত্যাহার করা না হলে রাজপথে কঠোর কর্মসূচি পালনের

হুঁশিয়ারি দেন তারা।

উল্লেখ্য, গত ২৮ এপ্রিল মামলাটি দায়ের করা হলে আদালত তা রেকর্ডভুক্ত করে সংশ্লিষ্ট

কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এ ঘটনার পর থেকেই চরফ্যাশনের

সাংবাদিক সমাজে তীব্র অসন্তোষ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

প্রতিবাদ সভায় চরফ্যাশন প্রেসক্লাব ও রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতারা স্থানীয় বিভিন্ন

সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

পোস্টটি শেয়ার করুন