শুক্রবার, ৮ই মে, ২০২৬, ২৫শে বৈশাখ, ১৪৩৩

ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা করছে সরকার: বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী

সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎকে

অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ

মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেছেন, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের ভবনের

ছাদ ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা করছে সরকার। উদ্যোক্তারা ভবনের ছাদে

সোলার প্যানেল বসিয়ে ভবন মালিককে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবেন।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও

ইনফ্রাস্ট্রাকচার এক্সপো’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা

বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে।

অন্যদিকে ভারত ও পাকিস্তান সৌর ও বায়ু বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়িয়ে জীবাশ্ম

জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনের চাপ কমাতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ দীর্ঘদিন

এ খাত থেকে বঞ্চিত ছিল।

বিদ্যুৎমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ এখন সৌরবিদ্যুতে এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত।

তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নীতিগত সহায়তা। নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে দ্রুত এগিয়ে

নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কমিটির বৈঠক

হয়েছে এবং নীতিমালার ভিত্তি চূড়ান্ত করা হয়েছে। সরকার সঠিক নীতিগত সহায়তা দিলে এই

খাতে বিপ্লব ঘটানো সম্ভব।

জ্বালানিমন্ত্রী উদাহরণ হিসেবে তৈরি পোশাক শিল্পের কথা তুলে ধরে বলেন, আশির দশকে

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দেওয়া বন্ডেড ওয়্যারহাউস ও ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির মতো

নীতিগত সুবিধাই বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাতে বিপ্লব এনেছিল। একইভাবে সৌরবিদ্যুৎ

খাতেও সহায়ক নীতি দেওয়া গেলে এ খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হবে।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু আরও বলেন, ইনভার্টার, ফ্রেম ও ফটোভোল্টাইক প্যানেলের মতো

সরঞ্জাম আমদানির ক্ষেত্রে একটি সহজ ও কার্যকর কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে, যাতে

উদ্যোক্তারা সহজে সোলার সিস্টেম স্থাপন করতে পারেন। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে

ব্যাটারি স্টোরেজ ব্যবস্থায়। কারণ শুধু দিনের বেলায় বিদ্যুৎ উৎপাদন যথেষ্ট নয়;

সন্ধ্যার পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে ব্যাটারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জ্বালানিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার এমন নীতি আনতে চায় যাতে উদ্যোক্তাদের করের চাপ কমে

এবং তারা সাশ্রয়ীভাবে সোলার প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারেন। আশা করা হচ্ছে, চলতি

মাসের মধ্যেই একটি নীতিমালা চূড়ান্ত হবে এবং জুনের মধ্যে তা মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের

পর সরকারি আদেশ হিসেবে জারি করা হবে।

সরকার আগামী পাঁচ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে

জোরালোভাবেই কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের ভবনের ছাদ ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনার

কথাও তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বেসরকারি উদ্যোক্তারা ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল বসিয়ে

ভবন মালিককে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবেন। মাস শেষে নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে বিল

সমন্বয় করা হবে এবং ভবন মালিককেও একটি অংশ দেওয়া হবে। এতে উদ্যোক্তাদের জন্য এটি

লাভজনক খাতে পরিণত হবে এবং রাজধানীর বিদ্যুতের চাপও অনেকটা কমে আসবে।

এক্সপো আয়োজকেরা জানান, তিনদিনব্যাপী প্রদর্শনীটি আগামী শনিবার পর্যন্ত চলবে। এতে

১২টি দেশের প্রায় ১৪০টি কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছেন। এই আন্তর্জাতিক

প্রদর্শনীতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, নির্মাণ ও অবকাঠামো উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট বহুমাত্রিক

পণ্য, প্রযুক্তি ও সেবা উপস্থাপন করা হবে। প্রদর্শনীতে মিডিয়া পার্টনার হিসেবে

রয়েছে দেশের জ্বালানি খাতের সাংবাদিকদের সংগঠন ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স

বাংলাদেশ (এফইআরবি)।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের

চেয়ারম্যান মুজাফফর আহমেদ, বাংলাদেশ এলিভেটর, এসকেলেটর অ্যান্ড লিফট আমদানিকারক

সমিতির সভাপতি মো. শফিউল আলম উজ্জ্বল, বাংলাদেশ টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি সমিতির

সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ, জ্বালানি প্রতিবেদক ফোরাম বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম.

আজিজুর রহমান এবং খবরের কাগজের সম্পাদক মোস্তফা কামাল।

পোস্টটি শেয়ার করুন