, ,

নবায়নযোগ্য জ্বালানির ফি কমানোর দাবি ব্যবসায়ীদের

বাংলাদেশে বেসরকারি পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরাসরি বিক্রির পথ সুগম করতে সরকার

‘মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট নীতি’ বাস্তবায়ন শুরু করেছে। এই নতুন নীতিমালার আওতায়

দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান গঠনের মাধ্যমে নিজস্ব

বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করে সরাসরি শিল্প ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি

করতে পারবেন। বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা মূলত সরকারি

সংস্থাগুলোর নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, এই নতুন নীতির মাধ্যমে উৎপাদন ও বেচাকেনায় বেসরকারি

অংশগ্রহণ বাড়িয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ঘটানোই সরকারের মূল লক্ষ্য।

নতুন এই নীতিমালার পূর্ণ সুফল পেতে সঞ্চালন ও অন্যান্য সেবা ফি সহনীয় পর্যায়ে রাখার

জোর দাবি জানিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পমালিকরা। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের

উদ্যোক্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে এবং বিদেশি ক্রেতাদের

পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের শর্ত পূরণ করতে কারখানায় সৌরবিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য

জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। বিজিএমইএ-র পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে

যে, যদি সেবার চার্জ অতিরিক্ত বাড়ানো হয় কিংবা সরকারি ভর্তুকির চাপ শিল্পমালিকদের

ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়, তবে কারখানা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট নীতি ২০৩০ সালের মধ্যে

নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক

ভূমিকা পালন করবে। তবে তাঁরা মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, বেসরকারি উদ্যোক্তাদের এই নতুন

ব্যবস্থায় উৎসাহিত করতে জাতীয় গ্রিড ব্যবহারসহ অন্যান্য সেবার চার্জ অবশ্যই যৌক্তিক

পর্যায়ে রাখতে হবে। অতিরিক্ত খরচের চাপ থাকলে এই নীতিমালার মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত

হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সঞ্চালন ফি সাশ্রয়ী হলে তবেই শিল্প পর্যায়ে নবায়নযোগ্য

বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট নীতি সফলভাবে বাস্তবায়িত করা গেলে

খুব অল্প সময়ের মধ্যেই জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত অন্তত ১ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ

যুক্ত করা সম্ভব। এটি কেবল জ্বালানি নিরাপত্তাই নিশ্চিত করবে না, বরং বিদ্যুৎ

উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)-এর ওপর থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ের চাপ কমিয়ে সরকারের বিশাল অঙ্কের

ভর্তুকির বোঝাও অনেকাংশে হ্রাস করবে। সরাসরি আলোচনার ভিত্তিতে মূল্য নির্ধারণের

সুযোগ থাকায় এটি বিদ্যুৎ খাতে একটি প্রতিযোগিতামূলক ও স্বচ্ছ বাজার ব্যবস্থা গড়ে

তুলতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন